হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় ৫০ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বারবার এমন রহস্যময় অসুস্থতার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিকেলের দিকে আরও তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে বুধবার মোট ১৩ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়।
এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় বিদ্যালয়টির ১৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর ১৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ২১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ নিয়ে এক সপ্তাহে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থতার শিকার হলো।
শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণ নিয়ে স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন ভিন্ন মত উঠে এসেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, শিক্ষার্থীদের এমন অসুস্থতার পেছনে ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ (গণ-মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব) কাজ করতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে সোমবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তবে তার শরীরে অসুস্থতার অন্য কোনো কারণ বা রোগের উপসর্গ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রথম ঘটনার পর কৃষি বিভাগের এক তদন্তে বলা হয়েছিল, বিদ্যালয়ের পাশের কৃষি জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের তীব্র গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে।
একই বিদ্যালয়ে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় বর্তমানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক অসুস্থতার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ডিবিসি/এমএনকে