ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রযাত্রায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমানের মাসকাটে হুতি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের এক গোপন বৈঠকের পর ওয়াশিংটন এই অবস্থান নিয়েছে। ওই বৈঠকে ইরান-সমর্থিত হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, লোহিত সাগরে মার্কিন কোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। অবরোধের কারণে তাদের একমাত্র লক্ষ্য কেবল সৌদি আরবের জাহাজ।
মূলত এই আশ্বাসের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের অগ্রযাত্রার তীব্র নিন্দা জানালেও রিয়াদকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে হুতিদের মদদদাতা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে। মার্কিন সহায়তা না পেয়ে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকা দখলে নেওয়া হুতিদের ঠেকাতে এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এর মধ্যে রিয়াদ দাবি করেছে, মঙ্গলবার মক্কার পবিত্র স্থান লক্ষ্য করে ড্রোন ছুড়েছিল হুতিরা, যা সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী আকাশে থাকতেই ধ্বংস করে দেয়। তবে হুতি নেতৃত্ব এই দাবিকে ‘শতাব্দীর সেরা মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
উল্টো হুতিরা দাবি করেছে, তারা মারিবের কাছে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়ানবুতে আরামকোর একটি কারখানায় হামলা চালিয়েছে। এসব আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক প্রধানদের একটি গোপন বৈঠকের খবর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এসভিএন