অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বসতি উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার করছে ইসরায়েল।
মানবাধিকার কর্মী ও গবেষকদের মতে, রাফায়েল নামের ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ‘ইমিসাইট’ (ImiSight) নামক এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল এলাকার ওপর স্যাটেলাইট নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ভূমির যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে তা অননুমোদিত স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার ভিত্তিতে দ্রুত বুলডোজার দিয়ে সেসব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের নাকাব মরুভূমিতে বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর এই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর পর এখন তা পশ্চিম তীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘সি’ জোন এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের হার প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় মানবিক তদারকির সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের স্থাপনাগুলো এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংস করা হলেও একই সময়ে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিগুলোকে সরকারিভাবে অর্থায়ন ও বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। মূলত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে নিজেদের নজরদারি প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করে এসব এআই প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পথও সুগম করছে ইসরায়েল।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/এসভিএন