পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের কাউকেই দলের মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে দেবে না ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্তমান বিরোধী দলনেতা মিতাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরকে শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তাদের নিজ নিজ দলের জন্য বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনের এই পদক্ষেপকে 'ভারতের গণতন্ত্রের হৃদয়ে গুলি চালানোর সমতুল্য' বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, নির্বাচন কমিশন আরও একবার প্রমাণ করল যে তারা বিজেপির হাতের পুতুল এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করার হাতিয়ার। শিবসেনা ও এনসিপির পর এবার তৃণমূলের ক্ষেত্রেও তারা একই কাজ করল। যারা বিজেপির বিরোধিতা করে, তাদেরই চরম আঘাত করা হয় এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনী অস্তিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। বিজেপির এই অসাংবিধানিক ছিনতাইয়ের পর তৃণমূলের প্রতীক জব্দ করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের যুযুধান দুই শিবির। এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর শুনানির পর মিতাব্রত শিবিরকে কিছু অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। আগামী ৬ অক্টোবর নির্ধারিত উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনেই কমিশনের এই নির্দেশ সামনে এলো। মূলত উপনির্বাচনে দুই শিবিরই দলের 'জোড়া ঘাস ফুল' প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছিল।
১৮ পৃষ্ঠার ওই নির্দেশে কমিশন জানিয়েছে, নথিপত্র ঘেঁটে তারা দেখেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়ের (মিতাব্রত শিবির) নেতৃত্বাধীন দুটি ভিন্ন গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই নিজেদের মূল দল বলে দাবি করায় নির্বাচন প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাই দুই পক্ষের অধিকার ও স্বার্থ সমানভাবে রক্ষার্থেই আপাতত এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, অরূপ রায় (আবেদনকারী) বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (প্রতিবাদী)- কোনও গোষ্ঠীই দলের নাম 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' এবং সংরক্ষিত প্রতীক 'জোড়া ফুল' ব্যবহার করতে পারবে না। বর্তমান উপনির্বাচনের জন্য তাদের কমিশনের তালিকা থেকে আলাদা মুক্ত প্রতীক বেছে নিতে হবে। তবে তারা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো নতুন নামের সঙ্গে মূল দলের নামের যোগসূত্র রাখতে পারবে।
এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভাঙনের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন।
সূত্র: দ্য হিন্দু
ডিবিসি/এসভিএন