মালয়েশিয়ার আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘ওয়ানএমডিবি’ (1MDB) দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা ঘোষণা করেছেন রাজা সুলতান ইব্রাহিম। এর ফলে ১২ মিলিয়ন ডলার বা ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানার বিনিময়ে তিনি সাজার বাকি অংশ কারাগারে না থেকে নিজ বাড়িতে গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে পারবেন। শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দপ্তরের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজার এই ক্ষমার ফলে ৭৩ বছর বয়সী নাজিব ২০২৮ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তার সাজার বাকি অংশ গৃহবন্দী হিসেবে কাটাতে পারবেন। তবে আইন বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, নাজিবকে নির্ধারিত সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এই ক্ষমার আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং সাজার বাকি অংশ ভোগ করার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আবারও কারাগারে ফিরে যেতে হবে। এর আগে গত বছরের শেষ দিকে এক বিচারক নাজিবের গৃহবন্দিত্বের একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন।
ওয়ানএমডিবির সাবেক সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এসআরসি ইন্টারন্যাশনাল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের দায়ে ২০২০ সালের জুলাই মাসে নাজিবকে প্রথম বিচারে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে একটি পারডনস বোর্ড তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে অর্ধেক করে এবং জরিমানার পরিমাণও কমিয়ে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতে নামিয়ে আনে। এই মামলায় তার সাজা ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গত ডিসেম্বরে গৃহবন্দিত্বের আবেদন খারিজ হওয়ার কয়েক দিন পরই, ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত আরেকটি পৃথক মামলায় তাকে আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১ দশমিক ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই ১৫ বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করছেন, যা প্রথম ৬ বছরের সাজা শেষ হওয়ার পরই শুরু হওয়ার কথা।
মালয়েশিয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার সন্তান নাজিব রাজাক ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় আগে ঘটা এই বিশাল দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জনগণের ক্ষোভের মুখে ২০১৮ সালের নির্বাচনে হেরে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে তার ও তার স্ত্রী রোসমাহ মনসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। সরকারি কৌঁসুলিরা জানান, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং ওয়ানএমডিবি উপদেষ্টা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, আত্মসাৎ করা এই অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল আবাসন, প্রমোদতরি এবং ক্লদ মোনে ও ভিনসেন্ট ভ্যান গগের মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মূল্যবান শিল্পকর্ম কেনা হয়েছিল।
ডিবিসি/এসভিএন