মেক্সিকোতে এক স্প্যানিশ এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোরিলোস রাজ্যের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক কারণে ইচ্ছাকৃত নারীহত্যা বা 'ফেমিসাইড'-এর অভিযোগ আনা হবে।
গত শনিবার মেক্সিকো সিটির কাছে কুয়াউতলা শহরে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় ২১ বছর বয়সী ক্লডিয়া টাকোরোন্টে আগুইলেরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। দুই দেশের অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউজিআর) প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা বিষয়ের ছাত্রী ক্লডিয়া মাত্র এক মাস আগে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় মেক্সিকোর মোরিলোস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইউএইএম) পড়তে গিয়েছিলেন। স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ওষুধি গাছের উৎসব চলাকালে রাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখানেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামে এক সন্দেহভাজনকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে।
মেক্সিকোর মোরিলোস রাজ্যটিতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সেখানে অন্তত ২১টি নারীহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্লডিয়ার মৃত্যুর পর মোরিলোস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছেন। স্পেনের গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছে।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এই হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ নিহতের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম আশ্বস্ত করেছেন যে, তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্প্যানিশ কনস্যুলেটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং মেক্সিকোর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা তদন্তের ক্ষেত্রে মোরিলোস অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এসভিএন