ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

ভারত

আর্থিক বিবাদের জেরে সেনা জওয়ানকে গাড়ির ভেতর আটকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

আর্থিক বিবাদের জেরে সেনা জওয়ানকে গাড়ির ভেতর আটকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

ভারত

আর্থিক বিবাদের জেরে সেনা জওয়ানকে গাড়ির ভেতর আটকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

MANIK

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১০:৩৫ অপরাহ্ন

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে বিহারের কৈমুরে এক সেনা জওয়ানকে গাড়ির ভেতর আটকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল। গত আটদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় লখনউয়ের একটি সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার কৈমুরের রামগড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয়রা।

নিহত জওয়ানের নাম শত্রুধন যাদব। তিনি কৈমুর জেলার রামগড় থানার অন্তর্গত সাহুকা গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি আর্থিক বিবাদের জেরে আটদিন আগে তাঁকে রামগড়ে ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে একটি স্করপিও গাড়ির ভেতরে আটকে রেখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বারাণসীর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে লখনউয়ের সেনা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

 

জওয়ানের মৃত্যুর খবর সাহুকা গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে এবং পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিপুল সংখ্যক মানুষ রামগড়ের দিকে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা দুর্গা চকে রাস্তা অবরোধ করেন, যার ফলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এমনকি থানার চত্বর ঘেরাও করার হুমকিও দেন ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

 

বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এসডিএম এবং ডিএসপি-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। এসপি শিখর চৌধুরী বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন যে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই মামলার তদন্তে স্থানীয় স্টেশন হাউস অফিসারের (এসএইচও) ভূমিকা নিয়েও তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি চার পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চলছে।

 

এসপি-র আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঠিক কী কারণে এই আর্থিক বিবাদ এবং এতে প্রত্যেক অভিযুক্তের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন