পোল্যান্ডে একটি স্থায়ী মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের ক্ষেত্রে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাওরোকির নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও তার বন্ধু ক্যারল নাওরোকির সাহসী নেতৃত্বের কারণেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও পোল্যান্ডের সামরিক জোটের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জবাবে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাওরোকি। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে এবং মার্কিন ঘাঁটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানটি দিতে পোল্যান্ড সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
পোলিশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান জিগনিউ বোগুকি ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে পোল্যান্ডের জন্য 'দারুণ খবর' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডে সোভিয়েত আগ্রাসনের ৮৭তম বার্ষিকীর দিনেই এই ঘোষণাটি এসেছে। এর আগে গত আগস্টেই পোল্যান্ডের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাওয়েল জালেস্কি জানিয়েছিলেন, নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই ন্যাটোর পূর্ব দিকের সীমানায় মিত্রদের উপস্থিতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আসছে পোল্যান্ড। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করলেও তা মূলত পালাক্রমিক বা রোটেশন ভিত্তিতে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক পোল্যান্ড, যারা নিজেদের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করে।
ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার কারণে মিত্রদের মধ্যে যখন এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছিল, ঠিক তখনই এই স্থায়ী ঘাঁটির খবর সামনে এলো। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে ন্যাটোর ঘাঁটি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানোয় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
ডিবিসি/এসভিএন