ভারতের দিল্লিতে বিয়ের মাত্র এক মাস আগে সাবেক নারী সহকর্মীর হাতে খুন হয়েছেন যুবরাজ সিং মানচান্দা (৩১) নামের এক যুবক। আর্থিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার পর লাশ গুরুগ্রামের একটি নালায় ফেলে দেয় ওই নারী ও তার সঙ্গী। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ভাটস ও তার সঙ্গীকে উত্তরাখণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আগামী মাসেই বিয়ের কথা ছিল যুবরাজের। গত ৬ সেপ্টেম্বর বোনদের সঙ্গে বিয়ের শেরওয়ানি কিনতে লাজপত নগর মার্কেটে গিয়েছিলেন তিনি। কেনাকাটা শেষে তারা একটি রেস্তোরাঁয় খেতে বসেন। সেখান থেকে জরুরি কাজের কথা বলে গুরুগ্রামে সাবেক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে যান যুবরাজ। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ১১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ও হৃদরোগে আক্রান্ত মাকে নিয়ে গড়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
এদিকে যুবরাজের মৃত্যুর খবরে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। তাদের দাবি, ১০ সেপ্টেম্বর গুরুগ্রাম পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও নিখোঁজদের পোর্টালে (জিপনেট) সময়মতো তথ্য আপলোড করেনি। এমনকি শনাক্তের জন্য অপেক্ষা না করে ১৪ সেপ্টেম্বর লাশ দাহ করে ফেলে পুলিশ। অথচ পরিবারকে মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ডিএনএ নমুনা ও যুবরাজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার আগে ভাটস নামের ওই সাবেক নারী সহকর্মীর সঙ্গেই যুবরাজের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ওই নারীই মূল সন্দেহভাজন। পরে নতুন একটি মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে উত্তরাখণ্ড থেকে ভাটস ও তার সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা হত্যার কথা স্বীকার করে জানায়, লাশটি গুরুগ্রামে তাদের বাড়ির কাছের একটি নালায় ফেলে দিয়েছিল তারা। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি, খুনের আসল কারণ আড়াল করা হচ্ছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে গ্রেপ্তার দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এসভিএন