ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ বন্ধ থাকার পর শুক্রবার বিকেলে বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এই বাইচের আয়োজন করা হয়। পুরোনো এই ঐতিহ্য নিজ চোখে দেখতে ফরিদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল নদীর দুপাড়ে।
সকাল থেকেই কুমার নদের দুই তীরে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিকেল হতেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাইচের নৌকাগুলো পানিতে ভাসতে শুরু করে। ঢাক-ঢোলের তালে তালে নৌকার মাঝিরা উল্লাসে মেতে ওঠেন, যার ঢেউ লাগে নদীর তীরে অপেক্ষারত দর্শকদের মাঝেও। হাজারো মানুষের পদচারণায় পুরো ভাঙ্গা পৌর এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবের নগরীতে।
এবারের আয়োজনে মোট ২৬টি বাইচের নৌকা অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ বারো বছর পর নৌকাবাইচ পুনরায় চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে নির্মল আনন্দ দেওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা। তাই আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবারের প্রতিযোগিতায় কোনো নৌকাকেই প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হিসেবে আলাদা করা হয়নি। বরং অংশগ্রহণকারী সব নৌকাকেই বিজয়ী ঘোষণা করে সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উৎসব দেখতে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েকজন দর্শক জানান, ‘ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ দেখতে সকাল থেকেই আমরা নদীর পাড়ে ভিড় করেছি। এত মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেও আমরা দারুণ আনন্দ উপভোগ করেছি।’
অনুষ্ঠানে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এই নৌকাবাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব। দীর্ঘদিন নানা জটিলতায় এটি বন্ধ ছিল। সবার সহযোগিতায় আমরা আবারও তা চালু করেছি এবং এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখতে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন। ভাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ অনেকদিন পর চালু হলো। আমাদের দল আগামীতে সারা দেশেই এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন করবে।’
নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে নদী সংলগ্ন পুরো ভাঙ্গা এলাকায় বিশাল এক গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়। বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা উৎসবের আনন্দ শেষে ফিরতি পথে মেলা থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফেরেন। সবার প্রত্যাশা, গ্রামবাংলার চিরায়ত এই ঐতিহ্য প্রতি বছর এভাবেই কুমার নদের বুকে উৎসবের রং ছড়াবে।
ডিবিসি/এমএনকে