পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোভিড লকডাউনের মতো একগুচ্ছ কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করেছে শাহবাজ শরিফের সরকার। নতুন গাড়ি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিয়েতে কেবল একটি পদ পরিবেশন এবং কর্মকর্তাদের সব ধরনের বিদেশ সফরে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং এই পরিস্থিতিতে সরকার ও উচ্চবিত্তদেরই আগে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাদে সব সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়াতে সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের অফিশিয়াল মিটিং ভার্চুয়ালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে অতি জরুরি ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের সব দফতরে নতুন গাড়ি কেনার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাঁচাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টার মধ্যে সব দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল ও কমিউনিটি সেন্টার রাত ১০টার মধ্যে এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ এসেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে কেবল এক পদের খাবার পরিবেশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল, ফার্মেসি, পেট্রোল পাম্প এবং আইটি প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি খাতগুলো এই সময়সীমার আওতামুক্ত থাকবে।
পাকিস্তান তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানি করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়া এবং সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর সময় পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ২৬৬.১৭ রুপি থাকলেও দফায় দফায় বেড়ে ১৮ সেপ্টেম্বর তা ৩৯০.৭৯ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে প্রতি লিটার হাই-স্পিড ডিজেলের দাম বেড়ে ৪২৪.৯২ রুপি হওয়ায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যার জেরে সরকার এসব কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো।