সারা বাংলা

গলাচিপায় খাসজমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণ ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ১৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাসজমিতে গণঅধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদুরা বাজারে একটি গ্যারেজ সংলগ্ন সরকারি জমিতে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে কাজ চলাকালে পাশের জমির মালিকানা দাবিদাররা এসে বাধা দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

 

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন কাওসার মৃধা (৪০), আবুবকর (২৯), শফিক (২৯), মনসুর (২৪), শাকিল (২৬), রেজাউল করিম (৩২), সামছুল আলম (২৮), শিহাব (২০) ও সুজন (২৫)।

 

জমির মালিকানা দাবি করা বাবুল হাওলাদার জানান, বাজারে তাদের ক্রয় করা জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বাধে।

 

পাল্টা অভিযোগ করে গণঅধিকার পরিষদের আমখোলা ইউনিয়ন শাখার সদস্যসচিব এমদাদ হোসেন বলেন, সরকারি জমিতে কার্যালয় নির্মাণের সময় বাবুল হাওলাদারের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মৃধার দাবি, তাঁর জমির সামনের অংশে হাটবাজারের সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে এবং পাশেই বাবুল হাওলাদারের জমি। সরকারি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। তাঁর স্ত্রী সাহিদ ইসলাম শান্তনা জানান, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তিনি গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে কার্যালয় করার অনুমতি দিয়েছিলেন, তবে কাজ চলাকালে হামলা চালানো হয়।

 

আমখোলা ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে জমির মালিকানা বা দখলের বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না।

 

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন