স্বাস্থ্য

উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বিলাসবহুল ৩ যাত্রীবাহী জাহাজ হচ্ছে ‘ভাসমান হাসপাতাল’

বাসস

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) তিনটি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাহাজ তিনটি হলো এম ভি মধুমতি, এম ভি রূপসা এবং এম ভি সুগন্ধা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) এলাকার বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসি টার্মিনালে এই জাহাজগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে বিশেষ এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী। এছাড়াও বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকবৃন্দসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিদর্শন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’ এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে। জাহাজগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাদিসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে বিআইডব্লিউটিসি নিবিড়ভাবে কাজ করবে।’

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই ভাসমান হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি), নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহির্বিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা স্বাভাবিক অবস্থাতেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষ মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

 

সরকারের এই মহৎ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যানসহ ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন