জাতীয়

দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বাসস

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার বা সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ আয়োজনে সদরের নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এক ‘উঠান বৈঠক’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

 

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও এখন তা ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। এ কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

 

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।

 

কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়ায় এবং বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় কৃষকের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়, ফলে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। তাই বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের চড়া দামের মধ্যেও কৃষকরা যাতে সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ইতিমধ্যে যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে একটি সৌরশক্তিচালিত পাম্প দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য সরকার নিজস্ব বাজেট বা বৈদেশিক সহায়তা থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করবে।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। বৈঠকে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি এবং স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এই বৈঠকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি তুলে ধরতে এবং তাদের মতামত ও পরামর্শ জানতেই এ ধরনের উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন