আন্তর্জাতিক

সন্তানের অপরাধের জন্য শাস্তি হতে পারে বাবা-মায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সন্তান অপরাধে জড়ালে তার দায়ে বাবা-মাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্তানের অপরাধমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে বাবা-মাকে জরিমানা করা হতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সরকারি ভাতাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, সন্তানদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বাবা-মাকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তবে শাস্তির ধরন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

সরকার এরই মধ্যে ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ বা অভিভাবকত্বের নির্দেশনা আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এর আওতায় আদালত বাবা-মা বা অভিভাবকদের সন্তানের আচরণ সংশোধনে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

 

এসব কর্মসূচির মধ্যে কাউন্সেলিং বা পরামর্শ সেশন থাকতে পারে। এমনকি অভিভাবকদের আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে হতে পারে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড জরিমানার বিধান থাকতে পারে।

 

রিচার্ডস বলেন, অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি ছাড়া বাবা-মাকে কারাদণ্ড দেওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক।

 

তিনি এই উদ্যোগকে ‘পুরস্কার ও শাস্তি-দুই দিকের সমন্বিত ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, সন্তানদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বাবা-মায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তবে এর সঙ্গে কিছু দায়িত্বও পালন করতে হবে তাদের।

 

বিশেষজ্ঞদের আপত্তি

সরকারের এই পরিকল্পনা নিয়ে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার অনেক বিশেষজ্ঞ আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিভাবকত্বের নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং এতে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও বেশি সমস্যায় পড়তে পারে।

 

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নিকি রাটার শিশুদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, অভিভাবকত্বের নির্দেশনা কার্যকর নয়-এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে। তার মতে, এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব নির্দেশনার ব্যবহার কমেছে।

 

রাটারের আশঙ্কা, জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হলে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার একটি সম্পর্ক রয়েছে। কোনো পরিবারকে আরও বেশি জরিমানা করা হলে তাদের হাতে থাকা অর্থ কমে যাবে এবং তারা আরও দারিদ্র্যের দিকে চলে যেতে পারে।

 

আগেও কারাদণ্ডের কথা উঠেছিল

চলতি বছরের মে মাসে তৎকালীন ব্রিটিশ বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছিলেন, সন্তানদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হলে বাবা-মা ও অভিভাবকদের জন্য কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

 

তবে কোনো বাবা-মা সমস্যায় পড়লে বিচারক হস্তক্ষেপ করে সন্তান প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে কি না এবং বাবা-মা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে পারবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

 

ল্যামি তখন বলেছিলেন, বাবা-মাকে কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা ‘খুব, খুব কম’ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন