কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পার্শ্ববর্তী লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এবং ড. নাহিদা বেগম দম্পতির সন্তান এবং স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করে কী জবাব দেব, জানি না।’ এটিকে জাতির ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ঘটনায় সবার বিবেক জাগ্রত হওয়া উচিত এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে এর বিচার নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানা যায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অন্যদিকে মা ড. নাহিদা বেগম ছেলেকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। অবশেষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা অনেকটা নিশ্চিত যে কেবল একটি মোবাইল ফোনের জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আটক তুহিনকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রতিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবিসি/আরএসএল