রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি, নাশকতার পরিকল্পনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে নির্মল কৃষ্ণ সরকারের বিরুদ্ধে। ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হুন্ডির মাধ্যমে তাদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও তার সম্পরক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নিজেকে নির্যাতিত দাবি করে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নেন নির্মল। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করে জনমত তৈরি এবং আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ একটি মহলকে পুনরায় সক্রিয় করার কৌশল হিসেবেই এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ রয়েছে নির্মল ও তার ভাই কমল সরকারের বিরুদ্ধে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ডেমরার সাইনবোর্ড এলাকার ডগাইর মৌজায় ১ দশমিক ৭১ একর জমি জালিয়াতির এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।
ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নির্মল সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের দীর্ঘদিনের সখ্য রয়েছে। পালাবদলের পরও দলটির নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাভেল ব্যবসা ও জমি কেনাবেচার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বিরোধপূর্ণ সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও তারা মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের পরিবারের একটি অংশ ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে এবং সেখানে তাদের বিপুল সম্পদ রয়েছে।
ডেমরার পাড়াডগাইর শ্মশান মন্দিরের সভাপতি থাকাকালীন মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিগ্রহের গলার স্বর্ণালঙ্কার চুরির অভিযোগ উঠেছিল নির্মলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ এবং তাকে মারধর করে মন্দির থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ও লেনদেনের ভাগাভাগি নিয়ে সম্প্রতি নির্মল ও কমলের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এর জেরে দুই ভাই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
নাশকতার পরিকল্পনা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নির্মল কৃষ্ণ সরকার ও কমল সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিবিসি/এসভিএন