কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে আইপিএস থেকে আগুন লেগে একটি বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আশপাশের বাড়িঘরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণপাড়া এলাকায় নবী হোসেন মিস্ত্রির বসতবাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বাড়ির মালিক নবী হোসেন জানান, তার বাড়িতে থাকা একটি আইপিএস থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে তার বৃদ্ধ মা-বাবা অবস্থান করছিলেন।
নবী হোসেন বলেন, আগুন যখন দাউ দাউ করে জ্বলছিল, তখন আমার বৃদ্ধ মা-বাবা আর কিছুক্ষণ ঘরের ভেতরে থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আল্লাহর রহমতে তাদের বাঁচাতে পেরেছি। তারা ঘরের বেড়া ভেঙে বাইরে বের হয়ে আসেন।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে তার বসতবাড়ির বিভিন্ন অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সবাই মিলে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এতে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন। দ্রুত স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে আগুন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারত এবং আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, নবী হোসেন মিস্ত্রির বাড়িতে আইপিএস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তেমন বেশি হয়নি বলেও জানতে পেরেছি।
স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে আইপিএস থেকে আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ডিবিসি/এসভিএন