বিবিধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

JF-17 Thunder (Block-3): প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তবতা!

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বর্তমানে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ প্রজেক্টে তৈরি JF-17 Thunder (Block-3) লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট একটি কার্যকর মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের যুদ্ধবিমান হলেও ফুল ওয়েপনস, লজিস্টিক ও ট্রেনিং প্যাকেজসহ এর পার ইউনিট কস্ট (প্রতি ইউনিটের খরচ) হতে পারে প্রায় ৮০-১০০ মিলিয়ন ডলার।

এই লাইট-ওয়েট যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এবং এটি সর্বপ্রথম সার্ভিসে আসে ২০০৭ সালে। এর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ হচ্ছে ব্লক-৩। তবে পাকিস্তান এই প্রজেক্টের অন্যতম অংশীদার হলেও বাস্তবে এই যুদ্ধবিমানের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি ও সাবসিস্টেম চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের তৈরি।


মূলত, ব্লক-৩ সংস্করণে অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম হিসেবে চীনের তৈরি KLJ-7A অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার ব্যবহার করা হয়েছে, যা একসঙ্গে একাধিক টার্গেট শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে সক্ষম। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রায় ৭-৮টি JF-17 বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উন্নত ককপিট ও অ্যাভিওনিক্স সিস্টেম হিসেবে হেলমেট-মাউন্টেড ডিসপ্লে এবং ডিজিটাল গ্লাস ককপিট ইনস্টল করা হয়েছে, যা এয়ার কমব্যাট মিশনে পাইলটের সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা পারিপার্শ্বিক সচেতনতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।


এছাড়া এর এয়ার কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্কের কাছ থেকে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টার্গেটিং পড যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ সিরিজের যুদ্ধবিমানে রাশিয়ার তৈরি একটি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার হচ্ছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এর পরিবর্তে চীনের WS-13 অথবা পাকিস্তান-তুরস্কের যৌথ প্রকল্পের জেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতে পারে।


উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, একজন পাইলট দ্বারা চালিত JF-17 Thunder (Block-3) লাইট যুদ্ধবিমানের কমব্যাট রেঞ্জ প্রায় ৯০০ কিলোমিটার এবং ড্রপ ফুয়েল ট্যাংক ব্যবহারে এর সর্বোচ্চ কমব্যাট রেঞ্জ হতে পারে প্রায় ১,৭৪১ কিলোমিটার। এর ম্যাক্সিমাম স্পিড ১.৮ ম্যাক এবং সার্ভিস সিলিং ৫৫,৫০০ ফিট। এই যুদ্ধবিমানের সাতটি হার্ডপয়েন্টে প্রায় ৩,৬৫০ কেজি পর্যন্ত মিসাইল ও অন্যান্য অস্ত্র বহন করা সম্ভব। এর প্রধান এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হিসেবে রয়েছে দূরপাল্লার PL-15E (১৪৫ কিমি বা তার অধিক রেঞ্জ) BVR মিসাইল এবং মাঝারি পাল্লার PL-12 মিসাইল।


এর প্রতি ঘণ্টার পরিচালনা খরচ গড়ে প্রায় ৫-৬ হাজার ডলার। এটি CM-400AKG অ্যান্টি-শিপ মিসাইলের পাশাপাশি পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি রাদ ক্রুজ মিসাইল এবং বিভিন্ন ধরনের লেজার-গাইডেড ও আন-গাইডেড মিউনিশন বহন করতে পারে। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান বেশ কিছু সংখ্যক যুদ্ধবিমান সৌদি আরবে মোতায়েন করেছে। 


পরিশেষে বলা যায়, পাকিস্তান ও চীনের যৌথ উদ্যোগে এটি ডিজাইন ও তৈরি করা হলেও চীন তার নিজস্ব বিমানবাহিনীতে এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করেনি। এটি মূলত পাকিস্তান এবং অন্যান্য মিত্র দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে রাখতে চায় চীন। 


তথ্যসূত্র: Wikipedia, Aero Times, Al-Jazeera


সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ক লেখক


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন