জাতীয়, অপরাধ

অনলাইনে যেভাবে করা হত ক্যাসিনো ব্যবসা

ইসতিয়াক হোসেন

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ২রা অক্টোবর ২০১৯ ০১:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সেলিম প্রধানের। সেলিম লন্ডনে কার কাছে টাকা পাঠাতেন, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশে অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানকে আটকের পর বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য। অনলাইন ক্যাসিনো থেকে অর্জিত আয় বিশেষ পন্থায় সংগ্রহ করে পাচার করা হত লন্ডনসহ কয়েকটি দেশে।

উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মি. দো এর সঙ্গে ৫০-৫০ পার্টনারশিপে পি-২৪ ও টি-২১ নামে দুটি অ্যাপস ডাউনলোডের মাধ্যমে করা হত। এরপর সেসব সফটওয়্যারে প্রবেশ করলে নানা ধরনের গেমস রয়েছে। গেমসগুলোতে পুরোপুরি বাংলায় নির্দেশনা রয়েছে।

ওই গেমসে প্রবেশ করতে গ্রাহককে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত গেমসের জন্য নির্ধারিত টাকা থাকতে হত অ্যাকাউন্টে। খেলা শুরুর পর নির্ধারিত ওই টাকা তিনটি অনলাইন 'গেটওয়ে'তে জমা হত। গ্রাহক খেলায় জিতলে টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত যেত, অন্যথায় গেটওয়েতে থেকে যেত।

এরপর প্রতি সপ্তাহে সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান সেসব গেটওয়ে থেকে টাকাগুলো তিনটি অ্যাকাউন্টে জমা করতেন। এরপর সেসব টাকা হুন্ডি অথবা ব্যক্তির মাধ্যমে লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যেত।

মঙ্গলবার বিকেলে, অনলাইনে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মূলহোতা সেলিম প্রধানকে আটকের পর র‍্যাব-১–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনলাইনে ক্যাসিনো কার্যক্রমে অংশ নেয়ার আগে প্রত্যেক জুয়াড়িকে নির্দিষ্ট ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো।  ব্যাংকগুলো হলো যমুনা ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সিলং ব্যাংক। অ্যাকাউন্টগুলোয় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখতে হতো। খেলায় জিতলে বা হারলে ওই অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হতো বা কাটা যেত। সম্পূর্ণ লেনদেন হতো একটি গেটওয়ের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত একটি গেটওয়েরই সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব। সন্ধান পাওয়া ওই গেটওয়েতে কেবল এক মাসেই প্রায় নয় কোটি টাকা জমা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরও গেটওয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেলিমের দুই সহযোগী আখতারুজ্জামান ও রোকন লেনদেনের এই টাকা হয় নগদে তুলে নিতেন, নয়তো বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন।

এর আগে, গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে থাইল্যান্ড যাচ্ছিলেন সেলিম প্রধান। খবর পেয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে তাঁকে নামিয়ে আনে র‍্যাব-১-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর গুলশান ও বনানীর দুটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নগদ ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, একটি বড় সার্ভার, চারটি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়েছে। অনলাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগী আখতারুজ্জামান ও রোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন