বাংলাদেশ, রাজধানী

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত বাংলাদেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দাবিতে তরুণদের ক্লাইমেট স্ট্রাইক

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ৮ই মে ২০২৬ ০৮:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত বাংলাদেশ ও বাসযোগ্য পৃথিবীর দাবিতে শুক্রবার (৮ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ পালন করেছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। এ সময় তারা কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার বৃদ্ধির জোর দাবি জানান। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কর্মীরা বলেন, উন্নত দেশগুলোর অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী এই স্ট্রাইকে অংশ নিয়ে বলেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের নামে কৃষিজমি ধ্বংস করা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, যার ফলে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং জেলেরা বেকার হয়ে পড়ছেন। 

 

ব্রাইটার্স-এর পরিচালক সাইদুর রহমান সিয়াম বলেন, পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে এটিই একমাত্র পথ।

 

সম্প্রতি কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিয়ে আসা তরুণ জলবায়ু কর্মী ফারিহা অমিও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি জানান, সম্মেলনে ৫৭টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ সেখানে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ যদি জীবাশ্ম জ্বালানির এই বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে না আসে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। 

 

ফারিহা আরও দাবি করেন, দেশের জ্বালানি খাত ফসিল ফুয়েল ও কয়লানির্ভর হওয়ায় বছরে ৪২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর ফলে দেশে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে এবং তরুণ প্রজন্ম ও বাংলাদেশকে এই ঋণের বোঝা সারাজীবন টানতে হবে।

 

পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মীরা জানান, চলমান বিশ্বে যুদ্ধসহ নানা কারণে যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা। সারা বিশ্ব যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশ তেল ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কয়লা সংকটের কারণে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।

 

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার ১০ হাজার কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বললেও তা বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নেও সরকার গড়িমসি করছে বলে তারা দাবি করেন। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন