দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষেরা একে অপরকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রতিবেশী ভারতের মাত্র এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। তবে এর বিপরীতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মানুষের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব অনেক বেশি। পাকিস্তানের ৬৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।
পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার জনসাধারণের পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয়দের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আগের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে এবং বর্তমানে দেশটির ৪৮ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই বাংলাদেশের প্রতি নেতিবাচক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন পাকিস্তানের ২২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ১৮ শতাংশ মানুষ। তবে ২০২৪ সালের তুলনায় বাংলাদেশ সম্পর্কে শ্রীলঙ্কার মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন উঠে এসেছে এই গবেষণায়। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি বা ৫১ শতাংশ মানুষেরই ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যেখানে ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন ৪২ শতাংশ মানুষ। পিউ রিসার্চ এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে জরিপ চালিয়েছিল। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি গত জরিপে ২৪ শতাংশ মানুষ কোনো মতামত দিতে না চাইলেও, এবার সেই হার মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে শ্রীলঙ্কার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এমন প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কার ৬৩ শতাংশ মানুষ ভারতকে তাদের মিত্র মনে করলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী ভারতকে সবচেয়ে ‘বড় হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ডিবিসি/এফএইচআর