• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  • রাত ৯:৫১

অদম্য পান্নার মেডিক্যালে পড়ার দায়িত্ব নিলেন এমপি ও ডিসি

অদম্য পান্নার মেডিক্যালে পড়ার দায়িত্ব নিলেন এমপি ও ডিসি

পান্নাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ছড়িয়ে যায়।  এরপর তার মেডিক্যাল কলেজে পড়ার দায়িত্ব বহনের ঘোষণা দেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান উভয়ই।

মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় থাকা দরিদ্র পরিবারের মেয়ে পান্না আক্তারের পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।  

এ বছর মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৬৭২তম স্থান অর্জন করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান পান্না আক্তার।  তার বাবা মো. দুলাল হোসেন দিনমজুর এবং মা কোহিনুর বেগমের অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালান।  তাদের পক্ষে মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে পড়ানোর সামর্থ না থাকায় ভালো রেজাল্ট করেও মুখের হাসি যেন ফুটতে পারেনি পান্নার।

পান্নাকে সাহায্য করার বিষয়ে আহ্বান জানান তার শিক্ষকরা।  পান্নাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও ছড়িয়ে যায়।  এরপর তার মেডিক্যাল কলেজে পড়ার দায়িত্ব বহনের ঘোষণা দেন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহারাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান উভয়ই।  

হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়চোঁ গ্রামের মুন্সীবাড়ির মো. দুলাল হোসেন এবং কোহিনুর বেগমের তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মেয়ে পান্না। 

বৃহস্পতিবার রাতে পান্না ও তার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।  এসময় তিনি পান্না ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেন, এবং তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।  

একই দিন সন্ধ্যায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খাঁন মেয়েটির মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির ব্যয়ভার বহন করবেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে চান্স পাওয়া ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি হতে যত টাকা লাগবে তার পুরোটাই চাঁদপুর জেলা প্রশাসন দেবে। এছাড়া সে যে কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে আমি সেই কলেজের সভাপতি হিসেবে পরবর্তীতে আরও সহযোগিতা করবো।“

পান্নার মা কোহিনূর বেগম বলেন, “রাতে এমপি স্যার ও ডিসি স্যার মোবাইল ফোনে আমাদের সাথে কথা বলেছেন। তারা আমার মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের কাছে আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো আমরা।“

মেডিক্যাল কলেজের ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে পান্না বলেন, “আজ আমি পৃথিবীর সবচে খুশি মানুষের একজন। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় পড়ালেখার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে আমাকে। অনেক অসুবিধার মধ্যে থাকলেও আমি চেয়েছিলাম পড়াশুনায় ভালো রেজাল্ট করতে।“

স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বিপুল সহায়তার কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পান্না। 

হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলচোঁ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ ৫ নিয়ে এইচএসসি পাশ করেন পান্না। 

পান্নার স্কুলের শিক্ষক রায়চোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীন শামীম বলেন, “আমাদের স্কুল থেকে পান্না কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে।  পরবর্তীতে সে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও ভালো রেজাল্ট করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তার এই অসামান্য সাফল্যে আমরা অত্যন্ত খুশি। “

শিক্ষক হিসেবেও তিনি চান, বিত্তবানদের সহযোগিতায় হলেও পান্না যেন উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করতে পারে।  তাই আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কেউ পান্নার উচ্চ শিক্ষায় সহায়তা করার জন্য ০১৮৩১-৪০১২৭২ নম্বরে যোগাযোগ করে আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন।“ 

পান্নার উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনার সব খরচ বহন করেছে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। তার কোচিং চলাকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছিল একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলাল এবং তার স্ত্রী সহকারী অধ্যাপক বিলকিছ বেগম।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৮ই অক্টোবর, ২০১৯
আপডেটঃ শনিবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ০৯:২৫


সর্বশেষ

আরও পড়ুন