• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • বিকাল ৭:৩৯

অপরিকল্পিত খননে খালে ভাঙন

নোয়াখালীর কবিরহাটে আলগী খালের ভাঙনে এ পর্যন্ত বসতভিটা হারিয়েছে অন্তত তিন হাজার পরিবার।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের কাঁধে দায় চাপাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চরমন্ডলিয়া আলগী খালের ভাঙন চলতি বর্ষায় তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে বসতভিটা হারিয়েছে অন্তত ৩ হাজার পরিবার। নতুন করে ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কয়েক হাজার বাড়িঘর, স্কুল-মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনার। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০ সালে স্লুইচ গেটের কাজ শেষ না করেই ৩০ ফুট খালের প্রস্থতা বাড়িয়ে ৯০ ফুট করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এক বছরে জোয়ারের পানি ঢুকে ৯০ ফুটের খাল পরিণত হয় সাড়ে ৩শ’ ফুটে। ফলে খালটি আশির্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার মানুষের জন্য। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, খাল খননের আগে আলগী ও বামনি খালের মুখে একটি বাঁধ দেয়া হয়েছিলো। গত বর্ষায় পানি আটকে থাকায় চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা ওই বাঁধটি কেটে দেয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। 

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, প্রতিনিয়ত জোয়ার-ভাটা উঠা নামার কারণে এই খালের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বামনি নদীতে একটি ক্লোজার নির্মাণ করবো, যখন এটির কাজ শেষ হবে তখন আর বামনি নদী দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে না।

তবে দায় অস্বীকার করে সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ চলছে বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইয়াকুব নবী। তিনি বলেন, এই বাঁধ কেটে দেয়ার ফলে অনেক ঝামেলা হয়েছে। এটিকে পরিকল্পনামাফিক প্রত্যেকটা মোড়ে ব্লক দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া এবং দ্রুত স্লুইচ গেটটি চলমান করার জন্য আমরা একযোগে কাজ করছি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আলগী খাল খননের ফলে বর্ষায় পানি নিস্কাশন এবং শুকনো মৌসুমে খালের পানি কৃষি কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা।  কিন্তু তা এখন মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে এলাকবাসীর জন্য।  খালের ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি গত এক বছরে ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি ভুক্তভোগীদের।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২৬শে জুলাই, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন