• শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  • দুপুর ১:০৪

আজ কথসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস

আজ কথসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস
প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর বাংলা কথা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় শিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক। আজ তার প্রয়াণ দিবস।

১৮৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাবা-মায়ের নাম হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রভাবতী দেবী। লাভপুরের যাদবলাল হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করে কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন। 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে গ্রেপ্তার হলেও পরে মুক্তি পেয়ে যান। এরপর নিজেকে সাহিত্যে নিয়োজিত করেন। ১৯৩২ সালে তিনি প্রথমবার শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে দেখা করেন। একই বছরে তার প্রথম উপন্যাস "চৈতালী ঘূর্ণি" প্রকাশ পায়।

চৈতালী ঘূর্ণি' এই উপন্যাসে গ্রামের দরিদ্র চাষী গোষ্ঠী আর তার স্ত্রী দামিনী গ্রাম্য শোষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য শহরে আসে। গোষ্ঠ কারখানায় চাকরি পায়। স্বামী-স্ত্রী বস্তিতে থাকে। গোষ্ঠ মজুরদের ধর্মঘটে অংশ গ্রহণ করে, যার সঙ্গে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মীরাও জড়িত ছিল। তারাশঙ্কর বাংলা কথা সাহিত্যে নতুন বক্তব্য নিয়ে আসেন।

তারাশঙ্করের প্রথম ছোটগল্প সঙ্কলন ‘ছলনাময়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৩৬খৃঃ। তার ছোটগল্পের সমষ্টি ‘জলসা ঘর' (১৯৩৭), ‘রসকলি' (এপ্রিল ১৯৩৮) ও ‘হারানো সুর' এর মাধ্যমেই বাংলা ছোটগল্পে তার তর্কাতীত প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হয়। তার ছোটগল্পগুলোতে রাঢ় দেশের জীবনযাত্রার শাখা-চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ‘জলসা ঘর'-এ আভিজাত্য বংশ মর্যাদার সাথে নিম্নস্তরের সামাজিক পরিবেশের তুলনামূলক সমাজ-চিত্র ফুটে উঠেছে। ‘হারানো সুরে' নিম্নশ্রেণীর জীবনযাত্রার ছায়াছবি অবলম্বনে কাহিনীর পরিবেশন করতে চেয়েছেন। ‘রসকলি' গল্প সংগ্রহে ভাবের অকৃত্রিমতায়, বিষয় বৈচিত্রে ঘটনাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। 

তারাশঙ্করের উপন্যাস, গল্প ও নাটক নিয়ে চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ও তারাশঙ্করের জলসাঘর এবং অভিযান উপন্যাসের সফল চিত্ররূপ দিয়েছেন।

তার লেখায় বিশেষ ভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষই হোক না কেন, তারাশঙ্কর তার সব লেখায় মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা তার লেখার সবচেয়ে বড় গুণ। সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তার অনেক গল্প ও উপন্যাসের বিষয়। সেখানে আরও আছে গ্রাম জীবনের ভাঙনের কথা, নগর জীবনের বিকাশের কথা।

এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার,পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত হন। মুক্তিযুদ্ধের বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা সাহিত্যের এই কিংবদন্তি লেখক। 

ডেস্ক
কামরুল ইসলাম
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২০
আপডেটঃ বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ০৮:০০


সর্বশেষ

আরও পড়ুন