• রবিবার, ০৭ জুন ২০২০
  • সকাল ৬:৪৫

আম্পানের আঘাতে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু

আম্পানের আঘাতে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু
ঘূর্ণিঝড় আম্পান তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।

বৃহস্পতিবার (২১শে মে) সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য জানা না গেলেও অন্তত এক লাখ কোটি রুপি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আম্পান তাণ্ডবে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার পাশাপাশি লণ্ডভণ্ড হয়েছে কলকাতা।

করোনা সংকটের মধ্যেই আম্পান তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। আইলার চেয়েও শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে লন্ডভন্ড করেছে কলকাতা, ২৪ পরগণাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা। গত কয়েক দশকের মধ্য সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলো কলকাতা। শহরের প্রায় ৪শ গাছ উপড়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে ৯টি বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক ভবন। অধিকাংশ রাস্তায়ই গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ব্যহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিতে তলিয়ে গেছে কলকাতা বিমানবন্দর।

ঝড়ের তাণ্ডবলীলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে দুই ২৪ পরগণা। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্রিজগুলোতে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। নষ্ট হয়েছে প্রচুর ফসল। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বেশিরভাগ এলাকা। দেখা দিয়েছে খাবার পানির সংকট। আম্পানে ভেঙে পড়েছে সচিবালয় নবান্নের একাংশ, যেখানে বুধবার সারারাতই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যজুড়ে আম্পানের ক্ষয়ক্ষতিতে স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এতটা ক্ষতি হবে তা আশা করেন নি। আম্পানের এই রূপ করোনার চেয়েও ভয়াবহ বলে জানান তিনি। লকডাউনের কারণে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় রাজ্যের পুনর্গঠনে কেন্দ্রের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মমতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক টুইটে পশ্চিমবঙ্গকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। সাতদিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে আড়াই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। আগামী শনিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা এবং সুন্দরবন এলাকা ঘুরে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৪১টি দল পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যায় দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছে। আপাতত, আশ্রয়শিবির থেকে ঘরে না ফিরতে বলা হয়েছে দুর্গতদের।

বুধবার বিকেলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে আঘাত হানে পশ্চিববঙ্গ উপকূলীয় এলাকায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থলভাগে এসে প্রথমে উত্তর ও দক্ষিণ দুই চব্বিশ পরগণায় তাণ্ডব চালায়। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আম্পানের আঘাতে।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২১শে মে, ২০২০
আপডেটঃ শনিবার, ৬ই জুন, ২০২০ রাত ০৮:৫৭


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন