• শনিবার, ১৫ মে ২০২১
  • রাত ১১:৫৫

কবরীর দাফন বনানী কবরস্থানে

কবরীর দাফন বনানী কবরস্থানে
করোনা সংক্রমণের কথা বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতায় শেষ বিদায় জানানো হচ্ছে কিংবদন্তী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীকে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল থেকে অভিনেত্রী সারাহ কবরীর মরদেহ গোসল করাতে নেয়া হয় মোহাম্মদপুর আল মারকাজুলে। গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাস ভবনে নেয়া হবে কিংবদন্তী এ অভিনেত্রীর মরদেহ। তারপর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে তাকে। সমাহিত করার আগে সেখানেই গার্ড অফ অনার দেয়া হবে মুক্তিযোদ্ধা এই অভিনেত্রীকে। সারাহ বেগম কবরীর ছেলে শাকের চিশতী এ সকল তথ্য জানান।

শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. ফারুক আহমেদ জানান, কবরীর ফুসফুস দুই পাশে ১০০ ভাগ আক্রান্ত ছিলো শেষ পর্যন্ত। প্রথমে ৬৪ শতাংশ লাং এফেক্টেড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।

এর আগে, শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী কবরী। গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনি। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে।

কবরীর শুরুটা ছিলো চলচ্চিত্র দিয়ে, এই চলচ্চিত্রের সঙ্গেই ছিলেন সারা জীবন। অভিনয় দিয়ে জয় করেছেন দর্শক হৃদয়। পরিচালক হয়ে দিয়েছেন নির্দেশনা। পাশাপাশি রাজনীতিতেও সফল তিনি। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক সারাহ বেগম কবরীর। সুতরাং দিয়ে রূপালি পর্দা জয় করেন কবরী, বাংলা চলচ্চিত্রে মিষ্টি মেয়ে হিসেবে স্থান পেয়ে যান চিরকালের।

হীরামন, ময়নামতি, চোরাবালি, পারুলের সংসার, নীল আকাশের নিচে, বিনিময়সহ অনেক অনেক সুপার-ডুপার হিট সিনেমা দিতে থাকেন কবরী। কাজ করেন জহির রায়হানের উর্দু সিনেমা ‘বাহানা’য়। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ অভিনয় দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়ান কবরী।

অভিনয় আর ভুবন ভোলানো হাসি দিয়ে সহজেই তিনি দর্শক হৃদয় হরণ করেন। সেই আসন এখনো টলেনি।

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্ম নেয়া খ্যাতিমান এই শিল্পী ১৯৭৮ সালে 'সারেং বউ' সিনেমার জন্য পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

চলচ্চিত্রের বাইরে রাজনৈতিক জীবনে পেয়েছেন সাফল্য। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নির্মাতা ও লেখক হিসেবেও নাম লেখান কবরী। ২০০৬ সালে তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আয়না’ মুক্তি পায়। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এছাড়া, ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৭ই এপ্রিল, ২০২১


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন