• শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০
  • বিকাল ৫:১৫

করোনায় বেড়েছে বাই-সাইকেলের চাহিদা

করোনায় বেড়েছে বাই-সাইকেলের চাহিদা
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের শঙ্কা আর বাড়তি ভাড়ার কারণে গণপরিবহণের বদলে বাইসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে রাজধানীবাসী। সাইকেল আরোহীরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব মানার পাশাপাশি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে এখন এর চেয়ে ভালো বাহন দ্বিতীয়টি নেই।

পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ বাহন হিসেবে সারা পৃথিবীতেই খ্যাতি আছে দুই চাকার বাহন বাই-সাইকেলের। করোনা মহামারিতে নানা শ্রেণি-পেশা আর নানান বয়সী মানুষের কাছে বাহনটি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যারা গণপরিবহনে যাতায়াত করেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে তাদের কাছে বাইসাইকেল যেন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠছে।

রামপুরার বাসিন্দা সোহান। দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে অফিসে যাওয়া আসা করতেন গণপরিবহণেই। সাধারণ ছুটি শেষে জীবনের তাগিদে কাজে যোগ দিলেও সংক্রমণের কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি।  গণপরিবহণ এড়াতে তাই কিনেছেন নতুন বাইসাইকেল। তিনি বলেন, আমি ১৫ দিন আগে সাইকেলটা নিয়েছি। করোনার কারণেই নিয়েছি আসলে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়াটা রিস্কি মনে করি। নেদারল্যান্সের রাস্তায় শুধু সাইক্লিং করার জন্যই আলাদা একটা লেন আছে। আমাদের ঢাকা শহরে এরকম নেই তাই অনেকেই সাইকেল চালানো রিস্কি মনে করে।'

করোনাকালের সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে রাজধানীর নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের এমন সব গল্প। একজন চাকরিজীবী সাইকেল ব্যবহারকারী বলেন, 'অনেক ঝুঁকি, গণপরিবহনে চড়ার তো প্রশ্নই আসেনা। সাইকেল সবচেয়ে বেস্ট। প্রায় পৌনে ১ লক্ষ টাকা ভাড়া আমি সেভ করি সাইকেল দিয়ে। আর আমার স্বাস্থ্যও ঠিক থাকে।'

আরেকজন চাকরিজীবী বলেন, 'আমি আগে সাইকেলে যাতায়াত করতাম না। এই করোনার জন্য আমি সাইকেলটা কিনেছি। প্রতিদিন সাইকেলের কারণে আমার ৬-৭০ টাকা সেভ হচ্ছে।'

এক ছাত্র বলেন, 'বাসের গ্রিল ধরবেন, দরজা ধরবেন, তো একই দরজা অনেকেই ধরতেসে। আমার সাইকেল শুধু আমিই ধরতেসি। আমি মনে করি করোনাকালীন সময় সাইকেল সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বাহন।'

দলবেঁধে কিংবা একা একা, করোনাকালে এভাবেই রাজপথে চোখে পড়ে সাইকেল আরোহীদের। আলাদা লেন না থাকায় রাজধানীতে সাইকেল চালানো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তারা।

সাইকেল ব্যবহারকারী আরেকজন জানান, 'এটাকে গ্রামের বাহন বলা ভুল। আমি মনে করি এই মূহুর্তে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ বাহন। একদিকে নিরাপত্তা নাই, আর ওপর বাসের ভাড়া ডাবল নিচ্ছে। দুইজনের ভাড়া একজনের কাছ থেকে নিচ্ছে। এই কারণেই সাইকেলটা ব্যবহার করছি।'

এদিকে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। যার বেশিরভাগ ক্রেতাই চাকরিজীবী।

দুরন্ত  বাইক গ্যালারির ব্যবস্থাপক আলিম আহমেদ বলেন, 'অন্যান্য মাসের চেয়ে বিক্রি বেশি এখন। ৫০-৬০ পিসের মত হবে, এটা মাসিক গড়ে বিক্রি হচ্ছে। যারা চাকরিজীবী তারা বেশি সাইকেলটা কিনছে।'

ডিএনসিসি মার্কেটের বিক্রেতা শাহিন জানান, 'আগে যেগুলা ১২ হাজারে বিক্রি করতাম এখন সেগুলো ৯-১১ হাজারে করছি। আমরা ডিসকাউন্ট দিচ্ছি। প্রতিদিন ৪-৫টা সাইকেল বিক্রি হচ্ছে। কোনদিন ৭টাও বিক্রি হচ্ছে।'

রাজধানীর সড়কগুলোতে বাইসাইকেল লেন নির্দিষ্ট করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ডেস্ক
জাকারিয়া আহমেদ
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২০শে জুন, ২০২০
আপডেটঃ শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ভোর ০৪:১১


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন