• সোমবার, ১৬ মে ২০২২
  • রাত ৯:২৩

কেমন হতে পারে আপনার অফিস আচরণ!

কেমন হতে পারে আপনার অফিস আচরণ!
অফিসে যাদের সঙ্গে দিনের বেশির ভাগ সময়টা কাটাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটাই ভালো। তবে অফিসে কিন্তু সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় না। অনেক সহকর্মীর মধ্যে একজন বা দুজন হয় ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

তবে বলে রাকা ভালো অফিসে কোনো সহকর্মীর সঙ্গে অতিরিক্ত বন্ধুত্ব আবার সৃষ্টি করতে পারে নানা জটিলতা। একই অফিসে যারা কাজ করেন, তারা সবাই সহকর্মী। পরিবারের বাইরে এ যেন আরেক পরিবার।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা নানা বয়সের মানুষরাই তখন একে অপরের হয়ে যান আপনজন। কখনো যে মনোমালিন্য ঘটে না, এমন নয়। মনোমালিন্য কোথায় না হয়! তবু হাসি, আনন্দ, দুঃখ-বেদনায় বন্ধু-পরিজনের পাশাপাশি যারা আপনার পাশে থাকে, তারাই সহকর্মী।

অফিসে এসে প্রতিদিন সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করুন। হাসিমুখে কথা বলার মধ্য দিয়ে শুরু করুন আপনার কর্মব্যস্ত দিনের সকালটি। দেখবেন, কাজের মাঝে আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। চারপাশের সবাইকে আপন ভাবার মধ্যে যে মানসিক শান্তি মিলবে।

অফিসে কাজের পরিবেশ-
অফিসে আসার উদ্দেশ্যই হচ্ছে কাজ। তাই কাজের পরিবেশ যাতে সুষ্ঠু থাকে, সেদিকে নজর দিন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গল্প কিংবা আড্ডা দিতে পারেন, আড্ডা কিংবা গল্পের ফাঁকে কাজ নয়। খেয়াল রাখবেন, আপনাদের গল্প করার কারণে যেন অন্য কোনো সহকর্মীর কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

ভুল বোঝাবুঝি হলে-
অফিসে কাজ করতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলুন। কারণ একত্রে কাজ করতে গেলে সম্পর্ক যদি ভালো না থাকে, তখন কাজের মাঝে আনন্দ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া রাগ, ক্ষোভ ইত্যাদি আমাদের মানসিক শান্তি নষ্টের জন্য যথেষ্ট।

ব্যক্তিগত বিষয়ে আগ্রহ না দেখানো-
সবারই কিছু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে, যা হয়তো সে অন্য কারো সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না। সহকর্মীর ব্যক্তিগত বিষয়ে তাই আগ্রহ দেখানো থেকে বিরত থাকুন।

আরও কিছু পরামর্শ:
একজন সহকর্মীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে বলেই তাকে সব সময় আঁকড়ে থাকবেন না। তাকেও অন্যদের সঙ্গে মেশার সুযোগ দিন। নিজেও মন খুলে অন্যদের সঙ্গে মিশুন।

মনে রাখবেন, অফিসে সবকিছুর আগে কাজ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। তারপর বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের জন্য যেন কাজে গাফিলতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
অন্যের মন্তব্য শুনে বন্ধুত্বে ছেদ টানবেন না। আপনার এবং আপনার বন্ধুর মধ্যে যে পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে, তা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।

জন্মদিন বা অন্য কোনো বিশেষ দিনে বন্ধুকে উপহার দিতে চাইলে তা অফিসে সবার সামনে না দেওয়ার চেষ্টা করুন।

অফিসের গল্প যেকোনো ক্ষেত্রে কারো বিপক্ষে আক্রমণাত্মক বা হাস্যকর যেন না হয়। এতে সহকর্মী-বন্ধুর বিপত্তিতে বিব্রত হতে পারেন আপনি।

সাধারণত সব অফিসেই বিভিন্ন সমালোচনা হয়। তাই সব কথায় কান দেবেন না। অন্যরা আপনাদের বন্ধুত্ব নিয়ে কথা বললে হেসে এড়িয়ে যান। এসব মন্তব্য যেন আপনাদের বন্ধুত্বে প্রভাব না পড়ে, তা খেয়াল রাখুন।

কারো সঙ্গে এমন বন্ধুত্ব করা ঠিক না, যাতে অফিসের অন্য সহকর্মীরা অখুশি হন। ও সংখ্যায় বন্ধু না বাড়িয়ে আচরণে বন্ধুসুলভ মানসিকতা বিকাশে নজর দিন।

কর্মস্থলে সহকর্মীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পরও একটু দূরত্ব বজায় রাখুন। ছোট ছোট ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহকর্মীদের বিষয়ে অভিযোগ করবেন না। 

আপনার সহকর্মীর কাজে বাধা দিয়ে আড্ডা মারার প্রবণতা থেকে দূরে থাকুন। কোনো সহকর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপদে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, ভালো আর খারাপ এ দুটি বিষয় মিলিয়ে আমাদের জীবন।


ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২৭শে জানুয়ারী, ২০২২


সর্বশেষ

আরও পড়ুন