• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০
  • দুপুর ২:৩৫

খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল

খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল
মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে লড়াইয়ে ব্যস্ত বাংলার দামাল ছেলেরা, তখন ফুটবল খেলে তহবিল সংগ্রহের যুদ্ধ করেছেন ফুটবলাররা। ভারতের মাটিতে ১৬-১৭ টি ম্যাচ খেলে অর্জিত প্রায় ১৭ লাখ টাকা তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে। বিশ্বব্যাপী জনমত আদায়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

বিজয়ের ৪৮ বছর পরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন ফুটবলাররা।

স্মৃতিচারণ করে স্সাবাধীণ বাংলা ফুটবল দলের সদস্য সাইদুর রহমান প্যাটেল বলেন, "পতাকা টানানো হলো জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি- এই গান গেয়ে আমরা শুরু করলাম আমাদের খেলা।"

বলতে গিয়ে গলা যেন বুজে আসছিলো খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়ে যাওয়া এই যোদ্ধার। এই আবেগ এই চেতনা'কে ধারণ করেই দেশের জন্য ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।

সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত লড়াইয়ে ফসল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এ লড়াইয়ে বিজয় অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের দামাল ছেলেদের।

সাইদুর রহমান প্যাটেল বলেন, "আমার ভেতর একটা চিন্তা আসলো, খেলাধূলার মাধ্যমে কিছু করা যায় কি না স্বাধীনতার পক্ষে কোনো কাজ করা যায় কি না। আমরা মাঠে মাঠে খেলে যে গেটমানি পাবো সেটা মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে জমা দিবো। বিশ্ব জনমত আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা একটা ভূমিকা রাখতে পারবো।"

স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম তান্না বলেন, "পাকিস্তান চাচ্ছিলো যে ঢাকাতে ফুটবল লিগটা চালাবে। ঢাকাতে ফুটবল লিগ যদি চলে তাহলে বোঝানো যাবে ঢাকা স্বাভাবিক, ঢাকাতে কিছু হচ্ছে না। তো ফুটবলেরই বেশি প্লেয়ার চলে আসলো। ওয়েস্ট বেঙ্গল, বিহার, মহারাষ্ট্র- সব জায়গায় আমরা খেলেছি। খেলে পাবলিকের সাংঘাতিক সাপোর্ট পেয়েছি আমরা।"

বিজয়ের এত বছর পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন কতটুকু এগিয়েছে সে প্রশ্নের জবাবে মাজহারুল ইসলাম তান্না বলেন, "ইনফ্রাস্টাকচারটা বড় হয়েছে। কিন্তু একটা জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের সময় ইন্টারস্কুল, ইন্টারকলেজ, ইন্টারইউনিভার্সিটি লেভেলের খেলাটা অবশ্যপাঠ্য বিষয়ের মতো ছিলো। সব স্কুল-কলেজে একজন স্পোর্টস টিচার থাকা বাধ্যতামূলক ছিলো।"

যেই পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিলো দেশের ক্রীড়াঙ্গন সেই পর্যায়ে যেতে পারেনি বলে মনে করেন এই ক্রীড়া সংগঠক।

এ ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে হলে সরকারকেই দ্বায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন তারা।

মাজহারুল ইসলাম তান্না বলেন, "খেলাধূলার সঙ্গে শিক্ষা- এই ব্যবস্থা কেন করছে না? সরকারের তো কাজ এটার ব্যবস্থা করা যে পড়াশোনার সঙ্গে খেলাধূলা থাকবে।"

এছাড়া ৪৮ বছর পরেও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জাতীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েই গেছে ফুটবল যোদ্ধাদের।

সাইদুর রহমান প্যাটেল বলেন, "এখন পর্যন্ত কিন্তু আমরা সেই আশা বুকে ধারণ করে আছি, আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আশা, আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত থেকে আমরা স্বীকৃতি চাই।"

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯
আপডেটঃ বৃহঃস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ০৮:৫৪


সর্বশেষ

আরও পড়ুন