• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  • রাত ৯:৩১

ঘূর্ণিঝড়: বাংলাদেশে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াল পাঁচটি সাইক্লোন

ঘূর্ণিঝড়: বাংলাদেশে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াল পাঁচটি সাইক্লোন
বাংলাদেশের সরকারি তথ্য অনুসারে, ১৯৬০-২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩টি বড় সাইক্লোনের ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে ২০০৭ সাল থেকে।  এর আগে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের নামকরণ হতো না।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০৭ সালে সিডরের পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়গুলোকে 'সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম' বা প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৭ সালে প্রথম স্পষ্ট নামকরণ করা হয়।  ২২৩ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা, এবং ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আসা সেই ঘূর্ণিঝড় ছিল সিডর যাকে ‘সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম উইথ কোর অব হারিকেন উইন্ডস’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পাঁচটি ঘূর্ণিঝড়

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়কে।  এরপরেই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো সিডর।

১৯৭০’র ঘূর্ণিঝড়: ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সবোর্চ্চ ২২৪ কিলোমিটার বেগে চট্টগ্রামে আঘাত হানা এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল।

যে হিসেব পাওয়া যায় তাতে ১৯৭০ এর সালের প্রবলতম ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়।

সেসময় ১০-৩৩ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল এবং অসংখ্য গবাদি পশু এবং ঘরবাড়ি ডুবে যায়।

১৯৮৫’র ঘূর্ণিঝড়: উরিরচরের ঘূর্ণিঝড় নামে পরিচিত এই সাইক্লোনটি যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ১৫৪ কিলোমিটার।

১৯৯১’র ঘূর্ণিঝড়: নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।  ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার। ১৯৯১ সালের ২৯-৩০ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় 'শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়' হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়।  যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরো অনেকে।  এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।

ঘূর্ণিঝড় সিডর: ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতার প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। জোয়ারের সময় হয়নি বলে প্লাবন কম হয়েছে, ফলে তুলনামূলক মানুষ কম মারা গেছে, কিন্তু অবকাঠামোগত অনেক ক্ষতি হয়েছে, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।  রেডক্রসের হিসেবে সিডরে ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে বলা হলেও সরকারিভাবে ছয় হাজার বলা হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় আইলা: ২০০৯ সালের ২৫ মে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা, যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি সবসময় পূর্ণাঙ্গভাবে উঠে আসে না, কারণ কর্তৃপক্ষ যখন মৃতের সংখ্যা নির্ধারণ করে তখন মৃতদেহ না পেলে মৃত হিসেবে লিপিবদ্ধ করে না। সাগরে যারা হারিয়ে যায় তাদের হিসাব করা হয় না। এ কারণে সিডরের সময় রেডক্রস ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল বললেও ন্তু সরকার বলেছি মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৮ই নভেম্বর, ২০১৯
আপডেটঃ শনিবার, ১৬ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ০৯:৫১


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন