• মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
  • রাত ১১:১৮

জয়জয়কারের মধ্যেও যে কারণে নন্দীগ্রামে হারলেন মমতা

জয়জয়কারের মধ্যেও যে কারণে নন্দীগ্রামে হারলেন মমতা
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ৩৪ বছরের বাম শাসন হটিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এবার সেই নন্দীগ্রামেই একসময়ের সহযোদ্ধা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারলেন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি।

সার্ভার জটিলতায় ফল ঘোষণায় সমস্যা হলেও নন্দীগ্রামের জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীই বলেছেন রিটার্নিং অফিসার।

শুরুটা হয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে। ২০০৬ সালে টাটা কোম্পানিকে ১ হাজার একর কৃষিজমি দিয়েছিলো তখনকার শাসক দল সিপিএম। কিন্তু শত শত কৃষক সেই জমি অধিগ্রহণ ঘিরে আন্দোলন শুরু করেন। তাদের সমর্থন দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চাপে পড়ে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাতে কারাখানা সরিয়ে নেয় টাটা।

২০০৭ সালে ফের পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া শহরের কাছে নন্দীগ্রামে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য শিল্প অঞ্চল স্থাপনের উদ্দেশ্যে ১০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিমবঙ্গের বামশাসিত সরকার। চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল কৃষকরা জমির ক্ষতিপূরণ নিয়ে বাস্তুচ্যুৎ হতে রাজি হয়নি। ফের গড়ে ওঠে তুমুল আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতেও ছিলেন মমতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে নন্দীগ্রাম আন্দোলনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার আসনে বসায়। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটে তৃণমূলের হাতেই।

নন্দীগ্রামের সেই আন্দোলনে মমতার অন্যতম সঙ্গী ছিলেন সেই সময় তারই দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কৃষক আন্দোলনে প্রভাবশালী সংগঠকের ভূমিকা পালন করিছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক নানা টানাপোড়েনে গেল বছরের ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু। মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানান নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়তে। ৫০ হাজার ভোটে মমতাকে হারাবেন বলেও ঘোষণা দেন।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের পর তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতার পদ্ম শিবিরে যোগ দেয়ার পর যখন দলের অবস্থা কিছুটা টালমাটাল সেসময় শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ নেন মমতা। নিজের ভবানীপুর আসন ছেড়ে প্রার্থী হন আলোচিত নন্দীগ্রামে। কিন্তু বাধে বিপত্তি। ১০ই মার্চ মনোনয়ন জমা দিয়ে একটি মন্দিরে পূজা দেয়ার পর আহত হন তিনি। অভিযোগ করেন, বিজেপির সমর্থকরা তাকে আহত করেছে।

পুরো নির্বাচনি প্রচারেই মমতা অংশ নেন হুইলচেয়ারে বসে। এ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। বড় জয় পাচ্ছে দল, জিতছেন মমতাও। এমন খবরে পায়ে হেঁটেই রাজ্য সচিবালয়ে যান তৃণমূল নেত্রী। সমর্থকদের ধন্যবাদও দেন মমতা। তবে কিছুক্ষণ পরেই আনন্দবাজার পত্রিকা জানায় নন্দীগ্রামে মমতা নয় জিতেছেন শুভেন্দু। এরপর ভোট লুট হয়েছে অভিযোগ করে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন মমতা।

হেরে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী হতে সাংবিধানিক বাধা নেই মমতার। তবে দলের বিধায়কদের সমর্থনের পাশাপাশি ৬ মাসের মধ্যে একটি আসন থেকে জয়ী হতে হবে তাকে।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২রা মে, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন