• শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১
  • সকাল ৬:২৪

দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা: উচ্চশিক্ষিত দম্পতি গ্রেপ্তার

রাজধানীতে দুদকের বড়কর্তা পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতে জড়িত উচ্চশিক্ষিত দম্পতি। টার্গেট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের বড়কর্তা পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতে জড়িত উচ্চশিক্ষিত এক দম্পতির খোঁজ মিলেছে। কখনও চেয়ারম্যান, কখনও কমিশনার, কখনওবা উপ-পরিচালকের ছদ্মবেশ ধরেন স্বামী। আর তার ব্যক্তিগত সহকারী সাজেন স্ত্রী। এরপর টার্গেট করা শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চিঠি ও ইমেইল দিয়ে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপন দিতে বলেন তারা। সাড়া না মিললে ফোন করে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিজ্ঞাপনের অর্থ হাতিয়ে নেন স্বামী-স্ত্রী।

সরকারি খাতে দুর্নীতি রোধে সুপারিশসহ প্রতি বছর রাষ্ট্রপতির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করে দুদক। বই আকারে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে থাকে না কোনো বিজ্ঞাপন।

অথচ বার্ষিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপন দেয়ার চাপ দিয়ে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতে জড়িত উচ্চশিক্ষিত এই দম্পতি। কৌশল হিসেবে দুদকের চেয়ারম্যান, কমিশনার কিংবা উপ-পরিচালকের ছদ্মবেশ নেন স্বামী নাঈম। আর তার ব্যক্তিগত সহকারী সাজেন স্ত্রী আশরাফী। তারপর নিজেদের বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় চিঠি ও ই-ইমেইল পাঠিয়ে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপন দিতে বলেন। সাড়া না দিলে দুদকের বড়কর্তা পরিচয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ফোন করে বিজ্ঞাপনের অর্থ আদায় করা হয়। দু'হাজার সতেরো থেকে এভাবে প্রতারণায় জড়িয়েছে তারা।  

ভুয়া দুদক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম নাঈম বলেন, দুদকের পরিচয় দিয়ে কয়েকটি কোম্পানীর কাছ থেকে বিজ্ঞাপনের জন্য টাকা সংগ্রহ করেছি। যদিও টাকার পরিমান অতো বেশি না তারপরও এটি অন্যায় আমি স্বীকার করছি। এর আগেও আমি এই কাজ করেছি এবার আবারও করতে গিয়েই ধরা পরেছি।

এ দম্পতির মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার তল্লাশি করে দুদক কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে তৈরি করা ই-মেইল অ্যাড্রেস, দুদকের জাল প্যাডে পাঠানো চিঠি উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া, বিজ্ঞাপনের অর্থ পেতে একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গেলো এক মাসে ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক দম্পতি।

ভুক্তভোগী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফারদিন এক্সেসরিস লি. এর মহাব্যবস্থাপক এম রহমান আপন জানান, চাপ দিয়ে দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিজ্ঞাপন দিতে বাধ্য করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল প্রতারকরা।

দুদকের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার দায়ে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত গ্রেপ্তার হলেন মূলহোতা নাঈম। পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া তথ্যে ব্যাংক অ্যাকউন্ট খুলে টাকা লেনদেনে সহায়তা করেন আশরাফী।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, দুদকের নাম,লোগো, সিল ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের ফোন দিত। ফোন দিয়ে তারা দুদকের ব্রুশিয়ার আকারে ছাপানোর কথা বলে বিকাশ,নগদ এবং ব্যাংকে বিভিন্ন হিসাব খুলে লেনদেন করতো।

প্রতারক দম্পতির অন্য সহযোগী রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৭ই এপ্রিল, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন