• বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • সকাল ৪:১৮

মানব সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত

মানব সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত
নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ড: এড্রিক বেকারের গড়ে তোলা হাসপাতালের হাল ধরতে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক মানবতাবাদী ডাক্তার দম্পতি জেসিন-মেরিন্ডি।

নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ড: এড্রিক বেকার নিজ দেশের আরাম আয়েশের জীবন ফেলে জীবন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে। দরিদ্র মানুষকে সেবাদানের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরের কালিয়াকুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন একটি হাসপাতাল। ৩২ বছর ধরে এই গ্রামে থেকেই মানুষকে সেবা দিয়ে গেছেন  ড: এড্রিক বেকার। সবাই তার মানবসেবায় মুগ্ধ হয়ে ডাক্তার ভাই বলে ডাকতেন।

ঘটনা ক্রম- বছর পাঁচেক আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে গ্রামবাসী তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দিতে চায়। কিন্তু তিনি ঢাকা যাননি, তার ইচ্ছা ছিল নিজের তৈরি হাসপাতালেই তার চিকিৎসা হোক। অবশেষে নিজ হাসপাতালেই ২০১৫ সালে মারা যান ড: এড্রিক বেকার। মৃত্যুর আগে তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন- যেন দেশের কোনো ডাক্তার গ্রামে এসে তার প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের হাল ধরেন। কিন্তু হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুসারে- এ দেশের একজন ডাক্তারও তার সেই আহ্বানে সাড়া দেননি।

তবে ঘটনা মোড় নিয়েছে অন্যভাবে। বিস্ময়করভাবেই তার আহ্বানে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন আরেক মানবতাবাদী ডাক্তার দম্পতি। হ্যা, জেসিন এবং মেরিন্ডি।

আমেরিকা, যে দেশে যাওয়ার জন্য দুনিয়ার সবাই পাগল, সেই আমেরিকার বিলাসবহুল জীবন বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ধুলামাটির সঙ্গেই তারা গুছিয়েছেন সুখের সংসার। উদ্দেশ্য শুধু একটাই, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেয়ার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।



নিজেদের সন্তানদেরও সাথে করে নিয়ে এসেছেন তারা। ভর্তি করেছেন গ্রামেরই স্কুলে।আর সন্তানরাও খাপ খাইয়ে নিয়েছে। এই দম্পতি থাকেন মাটির ঘরে। ডা. জেসিন লুঙ্গি পরেই ঘুরেন বেড়ান। তার স্ত্রী মেরিন্ডি পরেন শাড়ি। দুজনই বাংলা শিখেছেন। অনর্গল বাংলায় কথাও বলেন। তাদের ছেলেমেয়েরাও শিখছে বাংলা।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিটিভিতে প্রচারিত হানিফ সংকেতের ইত্যাদি অনুষ্ঠানে এই ডাক্তার দম্পত্তিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। দরিদ্র মানুষদের জন্য নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসক এড্রিক বেকারের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের হাল ধরে প্রশংসায় ভাসছেন আমেরিকান এই দম্পত্তি।

ড: জেসিন জানান, ড: এড্রিক বেকার বেঁচে থাকার সময় কালিয়াকুড়ির এই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছিলেন। পরে ডাক্তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে জেসন অস্থির হয়ে ওঠেন। কিন্তু তখন নিজের প্রশিক্ষণ ও ছেলেমেয়েরা ছোট থাকার কারণে জেসন বাংলাদেশে আসতে পারেননি।

অবশেষে সবকিছু গুছিয়ে সম্পদ আর সুখের মোহ ত্যাগ করে ২০১৮ সালে পুরো পরিবার নিয়ে আমেরিকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে আসেন মধুপুরে। জেসন হয়ে ওঠেন নতুন ডাক্তার ভাই আর মেরিন্ডি হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় ডাক্তার বিবি।

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন এই দম্পতি। তবে ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশি ডাক্তারদের গ্রামে গিয়ে দরিদ্র মানুষের সেবার আহ্বান জানিয়েছেন জেসন-রেরিন্ডি। তারা মনে করেন, দরিদ্র এসব মানুষের জন্য আরও ভালো চিকিৎসা দরকার।

তাদের নিয়ে ইত্যাদির প্রতিবেদনটি ভাইরাল হওয়ার পরে অনেকেই জেসিন-মেরিন্ডি দম্পত্তির প্রশংসা করছেন। সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসে দরিদ্র মানুষের সেবা করে তার দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন। 

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৩০শে নভেম্বর, ২০১৯
আপডেটঃ বৃহঃস্পতিবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ০৮:২২


সর্বশেষ

আরও পড়ুন