• বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১
  • সকাল ৬:৩০

নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুর জয়

নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দুর জয়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ১ হাজার ৬২২ ভোটে হারিয়ে জয় পেয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।

তবে এর আগে এই আসনে মমতা জয়ী বলে খবর প্রকাশ করে ভারতীয় গণমাধ্যম। নন্দীগ্রামের ফলাফলের প্রতিক্রিয়ায় ভোট চুরির অভিযোগ এনে আদালতে যাওয়ার কথা বলেছেন মমতা। এদিকে, নিজে হারলেও দলের জয়ের জন্য বাংলার মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘‘বাংলার জয়ের জন্য সকলকে অভিনন্দন। বাংলার জয়, মানুষের জয়। বাংলা আজ ভারতকে বাঁচিয়েছে।’’

সকাল থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম আসনে জয় পেল শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম নিয়ে চরম বিভ্রান্তি চলছিল। ১৭ রাউন্ড ভোটগণনার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে জয়ী হয়েছেন বলে খবর আসছিল। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতে মমতার জয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বলা হয়, সার্ভারে সমস্যার জেরে সঠিকভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না। তার পরেই ১ হাজার ৬২২ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর আসে।

নন্দীগ্রামে হারলেও পশ্চিমবঙ্গে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২০৯ আসনে জয় পেয়েছে দলটি। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছে ৮০টি আসন। এদিকে, কংগ্রেস ও সিপিএম জোট পেয়েছে মাত্র ৩টি আসন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট আসন ২৯৪টি। প্রার্থীর মৃত্যুতে দুটি আসনে ভোট হয়নি।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হয় ভোটগণনা। করোনার কারণে এবার কাউন্টিং হলের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছিল। রাজ্যটিতে দীর্ঘ আট পর্বের নির্বাচন শেষ হয় ২৯শে এপ্রিল।

ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ৬৬ বছর বয়সী মমতার রাজনৈতিক জীবনে ছিল নানা উত্থান পতন। তার নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটে।

১৯৫৫ সালের ৫ই জানুয়ারি কলকাতার হাজরা অঞ্চলের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাবা প্রমীলেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী।

কলকাতার শ্রীশিক্ষায়তন কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিও নেন।

১৯৭০এর দশকে কংগ্রেস আই দলের মধ্য দিয়ে মমতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।  ১৯৭৬ থেকে ৮০ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেস আইয়ের সাধারন সম্পাদক ছিলেন।

১৯৮৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ২৯ বছর বয়সে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে সেসময়ের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৭ বার জয়লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবনে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের দুবার রেলমন্ত্রী, একবার কয়লা মন্ত্রণালয় এবং একবার মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং ক্রিড়া ও যুবকল্যান এবং মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৯৭ সালে মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বভারতীয় তৃণমুল কংগ্রেস গড়ে তোলেন। ২০১১ সালে মমতার নেতৃত্বে তৃণমুল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করে রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২রা মে, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন