• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
  • সকাল ৯:১৮

পায়জামা পরা পইটু গাধা

পায়জামা পরা পইটু গাধা
গাধা বিশ্বের সবচেয়ে কর্মক্ষম প্রাণীদের একটি। একটা সময় গাধার এই পরিশ্রম করার ক্ষমতার জন্যই কৃষিকাজ থেকে মালপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই গাধার চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া।

বর্তমানে গাধার ব্যবহার কমে গেলেও কোন কোন প্রজাতির গাধার গুরুত্ব এখনও রয়েছে। তার মধ্যে একদল হলো ‘পোইটু গাধা’। আকারে সাধারণ গাধার তুলনায় এরা খানিকটা বড় এবং লম্বা। তবে সারা বিশ্বে এদের সংখ্যা এখন হাতে গোনা । ২০০৫ সালে হিসেব মতে, সারা বিশ্বে পোইটু গাধার সংখ্যা মাত্র ৪৫০। 



পোইটু এক ধরনের বিশেষ প্রজাতির গাধা যার আদি বাসস্থান ফ্রান্সের পোইটু উপত্যকায়। একটা সময় ইউরোপে চড়া দামে পোইটু গাধা কেনা-বেচা করা হত। লম্বায়-চওড়ায়, দেখতে এরা অনেকটাই ঘোড়ার মতো। ফলে এদের পরিশ্রম করার ক্ষমতাও অন্যান্য গাধার তুলনায়অনেকটাই বেশি। 

ঐতিহাসিকদের মতে, ১৭১৭ সালের পর থেকে ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুইয়ের উদ্যোগে কৃষিকাজের সঙ্গে সঙ্গে পরিবহনের কাজেও ব্যবহৃত হতে থাকে পোইটু গাধা। এই সময় থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়ে যায় এই প্রজাতির গাধার কদর। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে যন্ত্র বা মোটরচালিত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পোইটু গাধার চাহিদায় কমতি দেখা যায়।

বিংশ শতকেও অন্তত ৩০ হাজার গাধার প্রতিপালন করা হত ফ্রান্সের পোইটু উপত্যকায়। একটা সময় লবণ আর পশমের কারবারীদের কাছে দারুন কদর ছিল এই পোইটু গাধার। কারণ, এই প্রজাতির গাধার সারা শরীর বোঝাই ভারী পশমে। ভেড়ার পশমের মতো উত্কৃষ্ট মানের না হলেও, পোইটু গাধার পশমেরও যথেষ্ট চাহিদা ছিল।

এ কারণে ইউরোপের অনেকেই পোইটু গাধার প্রতিপালন করতেন। সে সময় মূলত ছাড়পোকা আর মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচাতে পোইটু গাধার চার পা মোটা কাপড়ে ঢেকে দিতেন তাদের মনিবরা যেগুলিকে দেখতে অনেকটা পাজামার মতো। 

এখন অবশ্য নুনের কারবারে প্রয়োজন হয় না পোইটু গাধার। ব্যবসার পরিবহণেও কাজে লাগে না এদের। তবে ঐতিহ্য মেনে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের খাতিরে এখনও পোইটু গাধাদের পাজামা পরিয়ে রাখা হয়।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৫ই অক্টোবর, ২০১৯
আপডেটঃ সোমবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ০৪:৩৭


সর্বশেষ

আরও পড়ুন