• সোমবার, ১৬ মে ২০২২
  • রাত ৯:১৩

পি কে হালদারের সম্পদের খোঁজে ভারতে অভিযান

বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আলোচিত পি কে হালদার ও তার সহযোগীর অবৈধ সম্পদের খোঁজে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ১০ জায়গায় অভিযান চালানোর খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে।

শুক্রবার দিনভর প্রতিবেশী দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এর পৃথক দল এসব অভিযান চালায়।  এসব অভিযান চলছে পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা, প্রীতিশ কুমার হালদার, প্রাণেশ কুমার হালদার এবং তাদের সহযোগীদের নামে থাকা বাড়ি ও সম্পত্তিতে।

এদের সবাইকে বাংলাদেশি নাগরিক উল্লেখ করে তাদের নামে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি রয়েছে বলে খোঁজ পেয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইডি। এদের মধ্যে সুকুমার মৃধা আগে থেকেই বাংলাদেশে গ্রেপ্তার রয়েছেন; যিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা সামনের আসার পর থেকেই পলাতক পি কে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী এবং তার অর্থ দেখভাল করতেন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য প্রিন্ট পিটিআইর বরাত দিয়ে লিখেছে, ইডি নিশ্চিত হয়েছে এসব বাংলাদেশি ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভারতে কোম্পানিও খুলেছে এবং কলকাতার অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছে। এদিকে অভিযানকালে সুকুমারের একটি বাড়ি থেকে প্রচুর অর্থ পেয়েছেন ইডির কর্মকর্তারা বলে অসমর্থিত সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ডয়চে ভেলে।

এদিকে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা ইডি এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, ভুয়া তথ্য-পরিচয় এবং ‘রেশন কার্ডে’র মত জাতীয় কার্ড ব্যবহার করে পি কে হালদার ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েছে শিবশংকর হালদার নামে। ভারতীয় পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হন।  

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে পি কে হালদার যেসব দেশে টাকা পাচার করেছে তার মধ্যে ভারতও রয়েছে। তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ইডির অভিযানে নাম আসা সুকুমার মৃধা হলেন পি কে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী; যাকে তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাসহ ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে দুদক।

কমিশনের সেই সময়ের দুদক সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, “পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুমুকার ও অনিন্দতা মৃধা। পিকে হালদারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার।
“পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।”

এছাড়া সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে তখন দুদক সচিব বলেছিলেন, এসব আসলে পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।”

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৪ই মে, ২০২২


সর্বশেষ

আরও পড়ুন