• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১
  • দুপুর ৩:৫৩

পূজায় কিডনি রোগীর যেসব ফল খাওয়া বারণ

পূজায় কিডনি রোগীর যেসব ফল খাওয়া বারণ
দুর্গাপূজার ‍উৎসবে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সমাহার থাকে। প্রসাদে থাকে নানা রকমের ফলমূল। কিন্তু কিডনী রোগীদের জন্য কয়েকটি ফলে রয়েছে মারাত্মক ক্ষতি। তাই তাদের সুস্থ থাকার জন্য কিছু ফলমূল এড়িয়ে চলতে হবে।

চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব। আর পূজা মানেই প্রসাদ। প্রসাদে রয়েছে নানা রকম ফলের সমাহার। পূজায় প্রসাদ খাইনা এমন মানুষ পাওয়া কঠিন। যে এমনিতে আপেল, কলা, তরমুজ, পেয়ারার মতো ফল খেতে পছন্দ করে না, সেও পূজার প্রসাদ খেয়ে নেয়।

কিন্তু এমন কি‌ছু ফল থাকে,যা বিশেষ কয়েকটি রোগের জন্য ক্ষতিকর। সেসব ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি। কিডনির সমস্যা থাকলে তেমনই কয়েকটি ফল খাওয়ার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

কিডনির সমস্যা থাকলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, কোনভাবেই যেন অতিরিক্ত পটাশিয়াম বা ফসফরাস না যায় শরীরে। তার জন্য যে ফলটি খাওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সাবধান হতে হবে, তা হল কলা। কলায় ভিটামিন ও মিনারেল প্রচুর পরিমাণে থাকলেও তাতে অনেকটা পটাশিয়ামও থাকে। কিডনি সমস্যায় অনেক সময় ফসফরাস বা ফসফেটের পরিমাণও বেড়ে যায়। ভুট্টার তৈরি খাবার,কোলা-জাতীয় পানীয়, কিছু বাদামে ফসফেটের পরিমাণ বেশি। তবে চিকিৎসক চাইলে ফসফেট বাইন্ডার ওষুধের মাধ্যমে ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। 

দুর্বল কিডনি অনেক সময় রক্ত থেকে পটাশিয়াম নিষ্কাশন ঠিকমতো করতে পারে না। এতে রক্তে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যে রক্তে ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করা হলে বিষয়টা ধরা পড়ে। যাদের এই প্রবণতা আছে তারা উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত ফলমূল এড়িয়ে চলাই ভালো। বেশি পটাশিয়াম আছে কলা, কমলা, ডাব, তরমুজ, টমেটো, কিশমিশ, অ্যাভোকেডো ইত্যাদি ফলে। তবে পটাশিয়ামের পরিমাণ কম এমন ফল যেমন আপেল, আঙুর, আনারস, স্ট্রবেরি ইত্যাদি খেতে বাধা নেই।

ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ঠেকাতে সর্বপ্রথম চাই রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের সুনিয়ন্ত্রণ। এটা না করতে পারলে কেবল খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে কিডনি ভালো রাখা যাবে না। যেসব কিডনি রোগীর শরীরে পানি আসে বা ফুলে যায়, তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক পানির পরিমাণ চিকিৎসক মেপে দিতে পারেন। তবে সেই সঙ্গে কমাতে হবে সোডিয়াম বা রান্নার লবণের পরিমাণও। এটি রক্তচাপ যেমন বাড়ায়, তেমনি পানি জমতেও সাহায্য করে।

যদি রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে কিডনির অসুখে আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ফলে পুজার প্রসাদ খাওয়ার সময়েও কিডনি রোগীদের অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি। অসুস্থবোধ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন কিডনির সমস্যা আসলেই একটি জটিল রোগ। এছাড়া নিজে থেকেও নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।  

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১২ই অক্টোবর, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন