• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  • রাত ৯:২৭

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অচল চিলির রাজধানী, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অচল চিলির রাজধানী, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
মেট্রোরেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে শিক্ষার্থীদের উত্তাল বিক্ষোভের মুখে শহরটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া বেশ কিছু স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী কয়েকটি মেট্রোরেল স্টেশানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করলে এবং রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করলে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এসময় রাস্তায় যানবাহন না পেয়ে বিপদে পড়েন শহরের অনেক বাসিন্দা। এরপরেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।  

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রচারিত ও প্রকাশিত ছবিতে অনেক শিক্ষার্থীকে পুলিশের গাড়িতে পাথর ছুড়তে, এবং অন্তত একটি বাসে আগুন লাগিয়ে দিতে দেখা গেছে। এছাড়া ছবিতে দাঙ্গাপুলিশতে বিক্ষোভকারীদের দিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়তে ও ব্যাটন দিয়ে পেটাতে দেখা যায়। 

এ মাসের শুরুতে দেশটির সরকার সান্তিয়াগোর মেট্রোরেলে পিক আওয়ারে ভ্রমণের ভাড়া এক দশমিক ১৭ ডলার সমপরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ভাড়া বাড়ানোর কারণ হিসেবে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং ডলারের বিপরীতে পেসোর দাম কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়। 

ছয় লাখ বাসিন্দার শহর সান্তিয়াগোর মাটির নিচের মেট্রোরেল ব্যবস্থাকে ল্যাটিন আমেরিকার সর্বাধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়। ১৪০ কিলোমিটার (৮৬ মাইল) দীর্ঘ এই মেট্রোরেলে ১৩৬টি স্টেশন অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। 

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনিয়েরা এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মেট্রোরেলের ভাড়া বাড়ানোতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা চাইলে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন।

এর আগে এক রেডিও’তে সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনিয়েরা বলেন, ‍“প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করা এক জিনিস, আর আমরা যেমন সহিংস ভাঙচুর দেখেছি সেটা আরেক জিনিস। এটা কোনো বিক্ষোভ না, এটা অপরাধ।“

শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত সান্তিয়াগোর রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ চলছিলো। চিলির তেল কোম্পোনি এনেল চিলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সান্তিয়াগোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের বহুতল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, তবে সেখানে কর্মরত সবাই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

তবে বিক্ষোভের পরেও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বর্ধিত ভাড়া কমাবে না। এছাড়া ভাংচুরের কারণে মেট্রোরেলের সব লাইন অন্তত দুই দিন বন্ধ থাকবে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত সারভেইলেন্স ক্যামেরা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ প্রায় সাত লাখ ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়।  

বিক্ষোভের ঘটনায় কতো জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে চিলির সরকার দাবি করছে, ভাংচুর ও সহিংসতার ঘটনায় কিছু সংঘবব্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। ভাংচুর ও সহিংসতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ‘স্টেট সিকিউরিটি ল’র অধীনে জড়িতদের কঠিনতর সাজা হতে পারে। 

ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে ধনী দেশ বলা যায় চিলিকে। তবে দেশটিতে সম্পদের অসম বণ্টন রয়েছে। দেশটিতে, বিশেষ করে রাজধানী সান্তিয়াগোতে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯
আপডেটঃ রবিবার, ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩৪


সর্বশেষ

আরও পড়ুন