• রবিবার, ০৭ জুন ২০২০
  • সকাল ৬:০৩

যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস আজ

যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান দিবস আজ
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ইস্টার সানডে আজ।

আজ ইস্টার সানডে, খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র দিন। তাদের বিশ্বাস- ঈশ্বরের পরিকল্পনা মতো, যীশু খ্রিষ্ট মানুষের পাপের ভার কমাতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর পর, তৃতীয় দিনে আবারো জীবিত হয়ে ওঠেন। তাদের কাছে এদিন, সমস্ত অমঙ্গলকে তুচ্ছ করে, পুণ্য প্রতিষ্ঠা ও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ে উজ্জ্বীবিত হবার দিন।

খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নির্দোষ হওয়ার পরও যিশু খ্রিষ্ট মানুষকে নিষ্কলুষ করতেই তখনকার শাসকগোষ্ঠীর হাতে বন্দি ও নির্যাতিত হন। বাইবেল মতে, ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী তা অনিবার্য ছিলো। শুধু নির্যাতনই নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিভ্রান্ত মানুষের দাবির মুখে যিশুখ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করে শাসকরা, সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
 
কিন্তু মৃত্যুর পর তৃতীয় দিনে তিনি আবার জীবিত হয়ে ওঠেন, যা পুনরুত্থান হিসেবে সুবিদিত। দিনটি ছিল রবিবার- আর তাও ঈশ্বরের পরিকল্পনারই অংশ।

বলা হয়, যিশু খ্রিষ্টের পুনরুত্থান কিংবা নবজন্মকে স্মরণ করার জন্য এই বিশেষ দিনটির নামকরণ করা হয়েছে দেবী ‘ইয়োস্ত্রে’র নাম অনুসারে। জার্মান প্যাগান ধর্মের এই দেবী ইয়োস্ত্রের নাম থেকে এসেছে ইস্টার শব্দটি। তিনি ছিলেন নবজন্ম এবং উর্বরতার দেবী। ছোট খরগোশ এবং ডিম ছিল তার প্রতীক।  

যিশুর আত্মত্যাগ স্মরণ করতে ইস্টারের ৪৫ দিন আগে থেকে শুরু হয় বিশেষ কর্মসূচি প্রায়শ্চিত্তকাল। প্রায় ছয় সপ্তাহের এই সময়ে রোববার দিন বাদে প্রতিদিন নানাভাবে নিজের পাপের জন্য অনুতাপ প্রার্থনা করে খ্রিষ্টানরা। উপবাস থাকা, নিয়মিত প্রার্থনা আর পাপ স্বীকারের মাধ্যমে পালিত হয় প্রায়শ্চিত্তকাল।

রবিবার বাদে উপবাস থাকার এই কর্মসূচি চলে ৪০ দিন। এছাড়া প্রায়শ্চিত্তকালে প্রতি শুক্রবার বিশেষভাবে প্রায়শ্চিত্ত করে খ্রিষ্টানরা। কারণ বাইবেলের মতে, যিশুর মৃত্যু হয়েছিল শুক্রবারে ঠিক দুপুর তিনটায়।

ইস্টার সানডের আগের শুক্রবার তাই বেশ ঘটা করে পালিত হয় গুড ফ্রাইডে। অনেকে এই দিনকে ব্ল্যাক ফ্রাইডে বা গ্রেট ফ্রাইডে বলেন। কালো পোশাক পরে সেদিন যিশু খ্রিস্টের মৃত্যুর শোক অনুভব করতে খ্রিষ্টানরা সমবেত হন গির্জায়, চলে বিশেষ প্রার্থনা।

তবে বড়দিনের মতো ইস্টার সানডে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তারিখে পালিত হয় না। বলা হয়, ২১ মার্চের পর যখন আকাশে প্রথম দেখা যায় পূর্ণ চাঁদ, তার পরের রবিবার পালন করা হয় ইস্টার সানডে।

মূলত গ্রেগরিয়ান এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডারসহ বেশ কয়েকটি দিন পঞ্জিকার হিসেব মিলিয়ে বের করা হয় ইস্টারের তারিখ, যা ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মের মধ্যে যে কোনো সময় হতে পারে।

ইস্টার সানডের একটি বড় আকর্ষণ হল, ‘ইস্টার এগ’ বা ‘ইস্টারের ডিম’। ডিমকে ধরা হয় নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে, ঠিক যেমন করে নতুন জীবন পেয়েছেন যিশু। ইস্টার উপলক্ষে মুরগির সেদ্ধ করা ডিমের খোলসের উপর তৈরি করা হয় নানা ধরনের নকশা। পেঁয়াজের খোসা, বাদাম, ফুলের পাঁপড়ি থেকে শুরু করে রং-তুলি, সুতা-জরি আরও অনেক কিছু দিয়ে সাজানো হয় এই ডিমগুলো। দেশ এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী এর ব্যবহার ভিন্ন।

তবে, এবারের করোনা বাস্তবতায় পুনরুত্থান রবিবারের খ্রিষ্টযাগ অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। তাই অঞ্চল বিশেষে বাছাই করা একটি গির্জা ছাড়া বাকি সব বন্ধ থাকবে।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১২ই এপ্রিল, ২০২০
আপডেটঃ রবিবার, ৭ই জুন, ২০২০ সকাল ০৯:৩৪


সর্বশেষ

আরও পড়ুন