• শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০
  • বিকাল ৫:৫৪

রেড জোনে যে সকল বিধিনিষেধ মানতে হবে

রেড জোনে যে সকল বিধিনিষেধ মানতে হবে
নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগের চলমান ঝুঁকি বিবেচেনায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকাকে লাল, হলুদ বা সবুজ জোন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জোন সুনির্দিষ্টভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোন অংশে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি কি হবে তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্থানীয় কমিটিগুলোকে নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত কৌশল বা গাইড তৈরি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে বিতরণ করেছে। ইতিমধ্যে গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলার নির্বাচিত এলাকায় এবং ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলক জোনিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ই জুন), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিকভাবে রেড জোনের জন্য যেসব বিধিনিষেধ ও নিয়মাবলী নির্ধারণ করা হয়েছে তা জানানো হয়।

বিধিনিষেধগুলো নিম্নরূপঃ

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে বর্ধিত সময়ে কৃষিকাজ কাজ করা যাবে।
২. স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রামাঞ্চলে কলকারখানা ও কৃষি পণ্য উৎপাদন কারখানায় কাজ করা যাবে। তবে শহরাঞ্চলে সব বন্ধ থাকবে।
৩. বাসা থেকেই অফিসের কাজ করতে হবে।
৪. কোন ধরনের জনসমাবেশ করা যাবে না। কেবলমাত্র অসুস্থ ব্যক্তি হাসপাতালে যেতে পারবেন।
৫. স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারবেন। রিক্সা ভ্যান, সিএনজি, ট্যাক্সি বা নিজস্ব গাড়ি চলাচল করবে না।
৬. সড়ক পথ, নদীপথ ও রেলপথে জোনের ভিতরে কোন যান চলাচল করবে না।
৭. জোনের ভিতরে ও বাহিরে মালবাহী নৌযান ও জাহাজ কেবলমাত্র রাতে চলাচল করতে পারবে।
৮. প্রত্যেক এলাকায় সীমিত পরিমানে প্রবেশ ও বহিরাগমন পয়েন্ট নির্ধারণ করে কঠোরভাবে জনগণের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৯. এই জোনের অন্তর্গত মুদি দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। রেষ্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে কেবলমাত্র হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে। বাজারে শুধুমাত্র প্রয়োজনে যাওয়া যাবে। তবে শপিংমল, সিনেমা হল, জিম/স্পোর্টস কমপ্লেক্স, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
১০. আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম যেমন টাকা জমাদান/ উত্তোলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেবলমাত্র এটিএম-এর মাধ্যমে করা যাবে। তবে সীমিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।
১১. এলাকার রোগীদের পর্যাপ্ত কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করা হবে। শনাক্ত রোগীরা হোম আইসোলেশন বা প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকবে।
১২. শুধুমাত্র মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মসজিদ/ উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব রেখে ইবাদত করতে পারবেন।
১৩. সাধারণভাবে রেড জোন ২১ দিনের জন্য বলবত হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে রেড জোন পরিবর্তন করা হবে।

এছাড়া রেড জোনসহ বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে নিম্নোক্ত সাধারণ নিয়মাবলী পালন করতে হবেঃ

১. সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। হাত ধোয়া, জীবানুমুক্তকরণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

২. করোনা রোগ/সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তাদের আইসোলেশন ও চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৪. স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। অসুস্থ ব্যক্তি পরিবহনকারী যান/ ব্যক্তিগত গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চলাচল করবে।

৫. সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

৬. এ সকল কার্যক্রমের তদারকির জন্য কার্যকরী সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মাঠকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, উল্লেখ্য রেড জোন বাস্তবায়নকালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সকলের প্রযোজনীয় নাগরিক সেবাসহ অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৬ই জুন, ২০২০
আপডেটঃ সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৫০


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন