• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
  • রাত ৮:৩০

সর্বাত্মক প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিএনপির

সর্বাত্মক প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিএনপির
পদ আঁকড়ে থাকা নিস্ক্রিয় নেতাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ তৃণমূল বিএনপির।

আন্দোলনের ধরনেও পরিবর্তন এনে প্রতিবাদের বদলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। তৃণমূলসহ বিভিন্নস্তরের নেতারা এজন্য সবার আগে পদ আঁকড়ে থাকা নিস্ক্রিয় নেতাদের দল থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেছেন। তবে, রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব দিয়ে রাজপথের আন্দোলন বা প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

ক্ষমতার বাইরে একযুগেরও বেশি। বিরোধী দলের মর্যাদা নেই সংসদে। দলীয় প্রধানও কারাগারে প্রায় দু'বছর। সব মিলিয়ে রাজনীতির জটিল হিসেব-নিকেশ বিএনপির সামনে জন্ম দিয়েছে উত্তরহীন অনেক প্রশ্ন।

আন্দোলনের বিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম এ বকর মনে করেন, 'আমরা যারা কর্মী আছি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের তাদের সবাইকে আন্দোলনের জন্য রাস্তায় নামতে হবে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সিমিয়র নেতৃবৃন্দকেও রাস্তায় নামতে হবে। সিনিয়র নেতারা আন্দোলনে রাস্তায় নামলে কর্মীরা উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন এস এম এ বকর। এমনকি দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি আছেন বলেও জানান এস এম এ বকর।

বিএনপির আসন্ন প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং আন্দোলনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম বলেন, 'যাদের আরও সোচ্চার হওয়া দরকার ছিল, ত্যাগ স্বীকার করার প্রয়োজন ছিল তারা এখন সোচ্চার হতে বাধ্য হবে। সেই তাগাদাও দলের সিনিয়র এখন অনুভব করছে।'

মেঘে মেঘে বেলা গড়িয়ে অনেকদূর গেলেও ঘুম না ভাঙায় ক্ষুব্ধ দলের নেতারা। দলের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বিএনপি তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এখন ব্যর্থতার গ্লানি থেকে আমরা এমন আন্দোলন গড়ে তুলবো যে আন্দোলনের ফলে নেত্রী মুক্ত হবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পাবে।'

নিজেদেরকে আর গতানুগতিক কর্মসূচির মধ্যে আবদ্ধ না রেখে আগামীতে সর্বাত্মক প্রতিরোধ কর্মসূচিত প্রত্যাশা করছেন বলে জানান বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, 'সর্বশক্তি নিয়ে আমরা প্রতিরোধ কর্মসূচিকে সফল করবো, নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনকে ত্বরাণ্বিত করে নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার সবই আমরা করব।' সময়ের প্রয়োজনে আন্দোলনের ভাষা বদলানো দরকার বলে মনে করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তবে, বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, রাজপথ বিমুখ নেতাদের দিয়ে কখনো প্রতিরোধ হয় না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গেল ১২ বছরে বিএনপি খুব বেশি প্রতিবাদ করেনি, গত এক মাস যাবৎ তাদের মাঠে দেখা যাচ্ছে, তার আগে তাদের মাঠে দেখা যায়নি। জীবনে আরাম আয়েশ এসেছে, সম্পত্তি এসেছে এই কারণে প্রতিবাদ ঠিকভাবে হচ্ছে না।'

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ৮ই নভেম্বর, ২০১৯
আপডেটঃ শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ০৮:৩০


সর্বশেষ

আরও পড়ুন