• শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
  • দুপুর ১:০১

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফোর মার্ডার: বেঁচে যাওয়া মারিয়া কেমন আছে?

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ফোর মার্ডার: বেঁচে যাওয়া মারিয়া কেমন আছে?
সাতক্ষীরার কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামের মাছ চাষী শহিনুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার পর বেঁচে যাওয়া ৫ মাসের মারিয়া এখন ভালই আছে। স্থানীয় মেন্বর নাসিমা খাতুনের কোলেই তার দিন কাটছে।

মারিয়াকে পেয়ে নাসিমার পরিবারও খুশি। সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা করছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। তিনি এরইমধ্যে মারিয়ার ভবিষ্যতের জন্য মারিয়া ফাউন্ডেশন খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ডিবিসি নিউজকে।

কখনো কাঁদে, কখনো হাসে, কখনও ফিডারে দুধ খেতে থাকে আবার কখনো ঘুমায়। নাসিমা মেন্বরের সাথে মারিয়ার এভাবেই সময় কাটছে। নাসিমা মেন্বর ডিবিসি নিউজকে বলেন, "আমার দুটি ছেলে, তারা বড় হয়ে গেছে। তাদের বিয়ে হয়েছে। আমার কোন মেয়ে নেই। মারিয়াই যেন আমার মেয়ে। জেলা প্রশাসক স্যার আমার উপর দায়িত্ব দিয়ে আমাকে যেমন ধন্য করেছেন, তেমনি তিনিও নিশ্চিত হয়েছেন আমার কোলে মারিয়া যেন সব সময় নিরাপদ। আমি যেন জেলা প্রশাসক স্যারের সেই বিশ্বাস বজায় রাখতে পারি।" 

"যে শিশু পৃথিবীতে এসেছে, তার বাবা মা ভাই বোন কোথায় জানার শক্তি হয়নি। তার আগেই দূর্বত্তরা তার পরিবারকে আলাদা করে দিয়েছে। আল্লাই মারিয়াকে হেফাজত করবেন।" 

নাসিমা মেন্বরের ছেলে বলেন, "আমাদের কোন বোন নেই, মারিয়াকে পেয়ে আমরা মহা খুশি। জেলা প্রশাসক স্যার যদি মারিয়াকে আমাদের কাছেই একেবারেই দিতেন তাহলে আমরা আরও খুশি হতাম।" 

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের ভাষ্য, "ঘটনার দিন মারিয়াকে কোলে নিয়ে এতই আবেগ আপ্লুত হয়েছিলাম যে কিভাবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করলাম তা বলতে পারবো না। তবে চাকুরি সূত্রে আজ সাতক্ষীরায় আছি কাল কোথায় থাকবো তার নিশ্চয়তা নাই। তাই মারিয়ার ভবিষ্যত ভেবে মোটামুটি একটি ফান্ড দিয়ে মারিয়া ফাউন্ডেশন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান থাকবেন দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক এবং সম্পাদক থাকবেন কলারোয়ার দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।" 

"দেশের যেখানেই চাকরির সুবাদে থাকিনা কেন মারিয়ার কথা আমি কোনদিনও ভুলতে পারবো না।" তার খোঁজ খবর লেখাপড়া থেকে শুরু করে ভাল জায়গায় না পৌঁছানো পর্যন্ত পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, গত ১৫ই অক্টোবর ভোর রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়ার খলশি গ্রামে মাছ ব্যবসায়ী শাহিনুল ইসলাম, স্ত্রী ছাবিনা খাতুন ও তাদের ছেলে মেয়েকে জবাই করে হত্যা করা হয়। রাতে শাহিনুলের শশুড়ি ময়না খাতুন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডি'কে।

হত্যার দিনই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় নিহতের ছোটভাই রায়হানুলকে। পরের দিন রায়হানুলকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রায়হানুল স্পীডের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে তাদেরকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করে সিআইডি পুলিশের কাছে।

ডেস্ক
এম জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১০ই নভেম্বর, ২০২০
আপডেটঃ বৃহঃস্পতিবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ০৪:৩৯


সর্বশেষ

আরও পড়ুন