• শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
  • বিকাল ৫:৩২

সাতক্ষীরায় অবৈধ নোট গাইড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও থেমে নেই বই ব্যবসা

সাতক্ষীরায় অবৈধ নোট গাইড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও থেমে নেই বই ব্যবসা
গোপনে উপজেলা শহরগুলোতে প্রান্তিক পর্যায়ে তা বিক্রি অব্যাহত আছে। কথিত লাইব্রেরী মালিক ও প্রকাশকরা এজেন্ট ও শিক্ষকদের মাধ্যমে এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোট গাইড ও গ্রামার বই এর চাহিদা অব্যহত রেখেছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অবৈধ নোট গাইড ও গ্রামার বই এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান হলেও তা বিক্রি বন্ধ নেই। গোপনে গোপনে এবং উপজেলা শহর গুলোসহ প্রান্তিক পর্যায়ে তা বিক্রি অব্যহত আছে। কথিত লাইব্রেরী মালিক ও প্রকাশকরা এজেন্ট ও শিক্ষকদের মাধ্যমে এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোট গাইড ও গ্রামার বই এর চাহিদা অব্যহত রেখেছে। ফলে কোমলমতি শিশুদের হাতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস বই এখনও বন্ধ হয়নি। প্রত্যেক লাইব্রেরী মালিকরা ইতোমধ্যে তাদের গুদামঘর পরিবর্তন করে গোপনে এসব অবৈধ বইয়ের ব্যবসা অব্যহত রাখার অভিযোগ রয়েছে।  

জানা যায়, পঞ্চম শ্রেণির স্কয়ার পাবলিকেশনস এর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বাংলা ২০২০ সালের গাইডে ৩০৩ নং পাতায় ৪৭ নং স্বাধীনতা দিবস রচনায় ‘স্বাধীনতার ইতিহাস-প্যারায় কোথাও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বিগত ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ‘টেস্ট পেপার’ এ ৬৯ পাতায় ৩১ নং রচনায় ‘স্বাধীনতা দিবস’ একই ভাবে একই লেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এসব পুরানো নোট গাইড ও গ্রামার বইয়ে নতুন করে মলাট দিয়ে ২০২০ সালে আবারো বাজারে আনা হয়েছে। 
খোজ নিয়ে জানাগেছে, উপরোক্ত স্কয়ার পাবলিকেশনস এর সাতক্ষীরা জেলার এজেন্ট বা সরবরাহকারি শহরের শহীদ নাজমুল স্মরণীর পপি লাইব্রেরী ও বলাকা লাইব্রেরীর স্বত্তাধিকারি মি: মিলন আহম্মেদ। 

এদিকে একটিভ প্রকাশনীর বর্তমান আপগ্রেড একটিভ থ্রি-জি তৃতীয় শ্রেণির ‘একের ভিতরে সব’ গাইডের ১১৪ নং পাতায় ১২ নং স্বাধীনতা দিবস রচনায় কোথাও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নেই। একই প্রকাশনীর চতুর্থ শ্রেণির একটিভ থ্রি-জি গাইডে ১৪৪ পাতায় ১৪ নং স্বাধীনতা দিবস রচনায় একই অবস্থা। এই গাইডের সাতক্ষীরা শহরে কোন এজেন্ট নেই। কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে মর্ডাণ বুক ডিপো’র স্বত্তাধিকারি শেখ আনজারুল ইসলাম ও কুশলিয়া বাজারের পুঁথিঘর লাইব্রেরীর বিরেণ বিশ^াস প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে বাজারজাত করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ অষ্টম শ্রেণি পাঠ -৪: ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা বাংলাদেশ গেজেট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ৩রা জুলাই ২০১১ কিন্তু বাংলাদেশ পুস্তক ও প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকাশনীর নোট গাইড ও গ্রামার বইয়ে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে এই সকল রচনা সম্বলিত নোট গাইড ও গ্রামার বাজারজাত করে কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের কাছে বিকৃত ইতিহাস তুলে ধরার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।   

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ‘সংঘ স্মারক ও সংঘবিধিতে সদস্য পদের অযোগ্যতার ১৩ ধারার (ট) গ্রন্থস্বত্ব আইন রাষ্ট্রোবিরোধী ও ধর্মীয় অনুভূতির পরিপন্থির কোন বই প্রকাশ ও বিক্রয় করিলে তার সদস্য পদ বাতিল হইবে। কিন্তু প্রতি বছর প্রকাশকরা স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস নোট গাইড ও গ্রামার বইয়ের মাধ্যমে অহরহ প্রকাশ করে আসছেন। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কেন্দ্রীয় নেতারা এসব বিষয় অবগত থাকলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাইনি বলে জানিয়েছেন এসবের সাথে সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে একটিভ প্রকাশনীর সাতক্ষীরা জেলার এজেন্ট কালিগঞ্জের মডার্ণ বুক ডিপো’র স্বত্তাধিকারি আনজারুল ইসলাম রাতে গনমাধ্যমকে জানান, তিনি এখন কোন বই ঢাকা থেকে গ্রহণ করছেন না। অপরদিকে পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় আর ব্যবসা করবেন না বলে জানান তিনি।

অপরদিকে আলোচিত অবৈধ নোট গাইড গ্রামার বই জব্দ ও মামলার ঘটনায় তদন্তকারি কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ওসি হারাণ চন্দ্র রাতে এ প্রতিবেদককে জানান, মামলার তদন্ত কার্য অব্যহত আছে। কবে নাগাদ এমামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্তকার্য পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে সব কথা বলা না গেলেও অবৈধ নোট গাইড ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।  

ডেস্ক
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১লা মার্চ, ২০২০
আপডেটঃ বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ রাত ০৩:৪৬


সর্বশেষ

ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণঃ

আরও পড়ুন