• শনিবার, ০৬ জুন ২০২০
  • রাত ৩:৩৯

সৌদিতে মসজিদে পড়ে থাকা আবুল অবশেষে হাসপাতালে; তসলিমও পেয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই

সৌদিতে মসজিদে পড়ে থাকা আবুল অবশেষে হাসপাতালে; তসলিমও পেয়েছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই
লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রবাসে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। কেউ ফুটপাতে, কেউ মসজিদের বারান্দায়, কেউবা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন যাপন করছেন।

চাঁদপুরের আবুল হোসাইনকে দেশটির রাজধানী রিয়াদের একটি বন্ধ মসজিদের বারান্দা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে! করোনা মহামারির এই সময়ে সৌদি আরবের মসজিদগুলোতে শুধুমাত্র আজান হলেও জামায়াতে কোন মসজিদে নামাজ হয়না প্রায় দু'মাস ধরে। তাই, মানুষের চলাফেরা নেই মসজিদে। ওরকমই একটি বন্ধ মসজিদে অসহায় এবং অসুস্হ্য আবুল হোসাইনকে কেউ রেখে যায়। খবর পেয়ে সোশ্যাল এক্টিভিস্ট আব্দুল হালিম নিহন তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের সেমুছি হাসপাতালে ভর্তি করাতে সক্ষম হন।

আব্দুল হালিম নিহন জানান, লিটন নামের এক প্রবাসী তাকে সংবাদ দিয়েছেন ঐ মসজিদে একজন বাংলাদেশি দীর্ঘদিন পড়ে আছেন। সেখানে উপস্হিত হয়ে তিনি জানতে পারেন, অসুস্হ্য ব্যাক্তির নাম আবুল হোসাইন, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়েনর বকচর গ্রামে। তার পিতার নাম আলী মিয়া। সে ২ মাস যাবৎ শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন, প্রথম প্রথম স্থানীয় একটি মেডিকেলের চিকিৎসা নিলেও উন্নতি হয়নি কিছুদিন পর প্যারালাইসিস আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে প্যারালাইসিস হয়ে অচল হয়ে যান, তার উপরে মহামারি করোনাভাইরাসের হানা। এমন অবস্থায় সঠিকভাবে আর চিকিৎসা নিতে পারেননি তিনি । সর্বশেষ তার বড় ভাইসহ কয়েকটি মেডিকেলে গেলেও তাকে ভর্তির সুযোগ দেয়নি কেউ।

পরে তাকে কে বা কারা মসজিদে রেখে গেলেন সেই তথ্য উঠে না আসলেও আবুল হোসাইনের শরীরের অবস্থা কোন দিক দিয়ে ভালো ছিলনা। শুয়ে থাকতে থাকতে তার কোমরের নিচে ঘা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে সহায়তার আহ্বান জানান নিহন। কিন্তু ব্যাপক হারে লাইক শেয়ার এবং ভিউ হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই, আবুল হোসাইনকে নিয়ে যাওয়া হয় রিয়াদের বিখ্যাত সেমুছি হাসপাতালে। সেখানে অনেক প্রক্রিয়া শেষে তাকে ভর্তি করাতে সক্ষম হন তিনি এবং তার সহকারি লোকজন। ১৪ই মে বৃহস্পতিবার থেকে আবুল হোসাইন সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

উল্লেখ্য, ১২ই মে মঙ্গলবার তিনমাস ধরে রিয়াদের ফুটপাতে পড়ে থাকা নওগাঁর তসলিমকেও সেখান থেকে তুলে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেন নিহন। ওই ব্যক্তির বাড়ি জেলার সদর উপজেলার তিলোকপুর ইউনিয়ন চৌধুরী পাড়ায়। তার বাবার নাম তোফাজ্জল হোসেন। দেশে পাঠানো পর্যন্ত তার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। 

ডেস্ক
সাগর চৌধুরী, প্রতিনিধি
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৭ই মে, ২০২০
আপডেটঃ শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ রাত ১১:৪১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন