• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
  • সকাল ৮:৪০

সৌদিতে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সুমি

সৌদিতে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন সুমি
বাবা মায়ের নিষেধ ছিলো, কিন্তু স্বামী নুরুল ইসলামের কথায় সৌদির পথে পা বাড়ান সুমি আক্তার (১৮)। শুরুতে ভাল কাজের কথা বললেও পরে গৃহকর্মীর ভিসায় তাকে সৌদিতে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সুমি আক্তারকে হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান সুমি। এ সময় সৌদিতে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে তার উপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন সুমি।

অষ্টম শ্রেণি পাশ করা সুমি দুই বছর আগে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে যোগ দেন। সেখানেই নুরুল ইসলাম নামে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার এক যুবকের সাথে পরিচয় হয় তার। ঢাকায় যাওয়ার ৬ মাস পর তাকেই বিয়ে করেন। গত ৩০শে মে তার স্বামী নুরুল ইসলাম 'রূপসী বাংলা ওভারসিজ'র মাধ্যমে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি তাকে আরবের রিয়াদে পাঠায়। সেখানে যাওয়ার পর রিয়াদে প্রথম কর্মস্থলে মালিক তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতো, মারধর করতো, এমনকি হাতের তালুতে গরম তেল ঢেলে দিতো। চিৎকার করলে ঘরের ভেতর আটকে রাখতো। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই মালিক তাকে না জানিয়েই সৌদি আরবের ইয়ামেন সীমান্ত এলাকা নাজরানের এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ২২ হাজার রিয়ালে বিক্রি করে দেয়। ওই মালিকও একইভাবে তাকে শারীরিক ও মানুষিকভাবে নির্যাতন শুরু করে।

উদ্ধার হওয়ার আগে ১৫ দিন তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। ঠিকমতো খাবার দেয়া হয়নি। তার নিজের মুঠোফোনটিও তারা নিয়ে নেয়। এক সময় খুব কান্না কাটি করে স্বামীর সাথে একটু কথা বলার জন্য মোবাইলটি চায় সুমি। বাড়ির মালিক তাকে মোবাইলটি দিলে বাথরুমে গিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে সুমি। সেই ভিডিওতে তিনি নিজের নির্যাতনের সব কথা জানায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। ভিডিওটি সাথে সাথেই তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। পরে ওই ভিডিও তার স্বামী সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সুমিকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সৌদির জেদ্দা কনসুলেটের কর্মকর্তা আব্দুল হক অসামান্য সহযোগিতা করছেন বলেও জানান সুমি। 

তিনি বলেন, "আমি যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি তা সবাই ভিডিওর মাধ্যমেই জেনেছেন। আর নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা না পেলে আমি আজ উদ্ধার হতে পারতাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাকে উদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।" এ সময় সুমি ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

সুমির মা মল্লিকা বেগম বলেন, "আমার মেয়েকে সরকার নির্যাতন থেকে উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে এজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুব দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর একদিনও স্বস্তিতে ঘুমাতে পারিনি। এখন মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, আর কিছু চাই না।"

পাঁচপীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির প্রধান বলেন, "সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমিকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। তার স্বামীর কথা মতোই সে সৌদিতে যায়। সৌদিতে যারা এভাবে গৃহকর্মীদের নির্যাতন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।" 

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, "প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি থেকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার বাংলাদেশে নিয়ে আসে। তাকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে।" 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে  তাকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মল্লিকা বেগমের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এসময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারি পরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯
আপডেটঃ মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:১৩


সর্বশেষ

আরও পড়ুন