• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১
  • বিকাল ৫:৩৫

৬৯ বছরেও তৈরি করা গেলো না ভাষা সৈনিকদের তালিকা

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পরও হয়নি ভাষা সৈনিকদের তালিকা। বাস্তবায়ন হয়নি ভাষা-সংগ্রামীর সুযোগ সুবিধায় আদালতের দেয়া ৮ দফা নির্দেশনাও।
রাজকাহন

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভাংলে পুলিশ গুলি চালায়। শহিদ হন তরুণ ছাত্র বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার ছাড়াও নাম না জানা আরও এক যুবক।

ভাষা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন আরও অনেকে। তাদের কারও কারও নাম বিভিন্ন লেখনীতে থাকলেও সরকারিভাবে আজ পর্যন্ত সেই ভাষা সৈনিকদের কোন তালিকা তৈরি হয়নি। এনিয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

সেসময় হাইকোর্ট তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দিলে ভাষা সৈনিক আহমদ রফিককে আহ্বায়ক করে তৎকালীন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক সহ ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সেই কমিটি মাত্র একটি বৈঠক করে, ভাষা তালিকা না করার পক্ষে মত দেয়। 

ভাষা সৈনিক তালিকা তৈরি কমিটির সদস্য মুনতাসীর মামুন বলেন, এতোগুলো বছর পেরিয়ে গেলো কমিটির কিন্তু কোন খোঁজ খবর নেই, কোন রকম কোন কাজও হয়নি। আমি মনে করি এভাবে কমিটি করে কোন কাজ হবে না হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও। ভাষা আন্দোলনে কিন্তু আপামর জনতা অংশ নিয়েছিল। এখন তালিকা করতে গেলে কি হয় তা আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে গিয়ে দেখেছি।

পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ভাষা সৈনিকদের ৬৮ জনের একটি তালিকা করলে সেই নাম নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়ায় গ্যাজেটটিও বাতিল হয়। পরে আর কোন তালিকা হয়নি।  

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা অনেক থাকা স্বত্ত্বেও কিন্তু আমরা একটা তালিকা করেছি। ভাষা সৈনিকদের তালিকা যখন করা হয়নি তখন হাইকোর্ট কিন্তু সচিবকে আদালত অবমাননার কারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হতে বলেছেন। তখন তিনি কিছু লোকের তালিকা করে একটা গেজেট করে বলেছিল বাকী কাজও উনারা করবেন। কিন্ত্য আজ পর্যন্ত তা করা হয়নি।

এদিকে বিশেষজ্ঞ কমিটির এই সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে নির্দেশনা পুনবিবেচনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করতে বললে গেলো ৮ বছর পর বুধবার তা নতুন করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, যদি একটি তালিকা থাকতো তাহলে কিছুটা সমন্বয় করা যেতো। এখন প্রায় ৭০ বছর পর এটা ঠিকভাবে করা সম্ভব না। বিশেষজ্ঞ যারা কমিটিতে ছিলেন তারাও একই কথা বলেছেন। ফলে এখানে আমাদের মন্ত্রিপরিষদ বিষয়ক সচিব এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তাই আমাদের কাজ করার সুযোগটা কম।

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে তাদের বেশিরভাগই বেঁচে নেই। তালিকা করতে গেলে দেখা যাবে যে যার ইচ্ছামত নাম করছে। এই তালিকা করা উচিত ছিল ৫০ বছর আগে। আজ পর্যন্ত যে সরকারই এসেছে কেউই এটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

ডেস্ক
ডিবিসি নিউজ
প্রকাশিতঃ ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১


সর্বশেষ

আরও পড়ুন