ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

জাতীয়

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়

চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ২৯শে জুন ২০২৬ ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়, ভুল নীতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুঁজিবাজারে ধস নেমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছিল। এ ছাড়া বিগত সরকারের ‘ভ্যানিটি প্রজেক্ট’ বা অহেতুক প্রকল্পের বিপরীতে নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা এখন জাতির ওপর চেপে বসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 

বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে অস্বীকার করে না, আবার একে অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করবে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকটের কারণে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বহুমুখী সংকট মাথায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালনে সরকার বদ্ধপরিকর এবং সরকারের মূল দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার এবারের বাজেটকে অর্থনীতি পুনর্গঠনের রূপকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা সচল করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়িয়ে তিন লাখ ষোল হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রকল্পের পেছনে ব্যয় করার চেয়ে সেই প্রকল্প মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কী পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সরকার তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে

অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকারের তিনটি ধাপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হবে এবং চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, বরং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও তরুণদের কর্মসংস্থানই প্রকৃত উন্নয়ন। ঋণনির্ভর নয়, বরং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন