আন্তর্জাতিক
রাশিয়ার নির্বাচনে আবারও জিতল পুতিনের দল

ইউক্রেনে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া দল বিপুল বিজয় লাভ করেছে।
এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে তাদের বিশেষ সামরিক অভিযান এর প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নির্বাচনে পুতিন ও ক্রেমলিনের যুদ্ধের সমর্থক দলগুলোই কেবল অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, বিরোধী দলগুলোকে আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
নির্বাচনী ফলাফল
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন এলা পামফিলোভার দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া দল ৫৭.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই জয়ের ফলে ৪৫০ আসনবিশিষ্ট রাশিয়ান স্টেট ডুমায় দলটি প্রায় ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা তাদের বর্তমান আসনের চেয়ে ২০টি বেশি। এটি ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসনের রেকর্ড হতে চলেছে। এর আগে ২০১৬ সালে দলটি সর্বোচ্চ ৩৪৩টি আসন পেয়েছিল।
দখলকৃত অঞ্চলে ভোট
এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের দখলকৃত ও বেআইনিভাবে সংযুক্ত করা চারটি অঞ্চল-দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়ার পাশাপাশি ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়াতেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউক্রেন এসব অঞ্চলে নির্বাচনকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
চেচনিয়ায় কাদিরভেরই একচ্ছত্র আধিপত্য
অন্যদিকে, রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ টানা পঞ্চমবারের মতো নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, তিনি এবার ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যা ২০২১ সালের ৯৯.৭৩ শতাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই অঞ্চলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, কাদিরভের সরকার সাংবাদিক ও সমকামীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ধরপাকড়, ইন্টারনেটে কড়াকড়ি, জ্বালানি সংকট এবং নির্বাচনের পর নতুন করে সেনা সমাবেশের গুঞ্জনের মধ্যেই দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
ডিবিসি/ এসভিএন