সারা বাংলা
পটুয়াখালীতে ইমাম-খতিবসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, বাদীই এখন গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ৬৩ বছর বয়সী জাহানারা বেগম। ৮৬৪/২০২৫ নম্বরের ওই মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় জাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে যান মসজিদের খাদেম সাব্বির। সেখানে ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন এবং আহমাদুল্লাহর উপস্থিতিতে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান না হওয়ায় আদালতে মামলা করেন জাহানারা বেগম।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বাদীর বর্ণিত ঘটনার পক্ষে তদন্তে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাদীর নাতি নিজ ইচ্ছায় মডেল মসজিদে গিয়েছিল। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
তবে জাহানারা বেগমের দাবি, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে আটকে রাখা হয়েছিল। এ কারণেই তিনি মামলা করেছেন। জাহানারা বেগম বলেন, ‘চুরির অপবাদে আমার দুই নাতিকে আটকে রাখা হয়েছিল। এজন্য আমি মামলা করেছি।’
অভিযোগ অস্বীকার করে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন বলেন, মসজিদের বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। বয়স কম হওয়ায় পরে পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তানভীর হোসেন আরও বলেন, পিবিআই তদন্তে মামলার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ মামলার কারণে তারা দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছি। পরোয়ানাটি পর্যালোচনা করে জানতে পারি, তিনি ওই মামলার বাদী এবং তাঁর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বর্তমানে তিনি থানায় আছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।’
ডিবিসি/ এসভিএন